নির্মলা সীতারামন। — ফাইল চিত্র।
মোট চোদ্দ বার এল কর্মসংস্থান শব্দটি। চাকরির কথা মোট ছয় বার।
বিশ্ব বাজারে অনিশ্চয়তার ফলে এ দেশে বস্ত্র, চামড়া, জুতো, রত্ন-অলঙ্কারের মতো রফতানি নির্ভর ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই সব ক্ষেত্রেই আবার বিপুল পরিমাণে কর্মী নিয়োগ হয়। সে কথা মাথায় রেখে আজ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন তাঁর বাজেটে কারখানায় উৎপাদনের সঙ্গে পরিষেবা ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান তৈরিতে জোর দিলেন। কর্মসংস্থান তৈরিতে আজ অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা, একটি উচ্চস্তরীয় স্থায়ী কমিটি তৈরি হবে। তারা কর্মসংস্থান ও উদ্যোগ তৈরির প্রয়োজন মতো শিক্ষার রূপরেখা তৈরির রাস্তা খুঁজবে। একই সঙ্গে, কৃত্রিম মেধা বা এআই-এর ফলে চাকরিতে কী প্রভাব পড়বে, এআই-এর ফলে নতুন কী কী দক্ষতার প্রয়োজন পড়বে, তা-ও খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। অর্থমন্ত্রীর দাবি, এই বাজেট যুবশক্তি-চালিত বাজেট।
কর্মসংস্থান, আর্থিক বৃদ্ধি, রফতানি— এই তিন লক্ষ্য পূরণে আজ মোদী সরকারের বাজেট নতুন করে পরিষেবা ক্ষেত্রে জোর দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০৪৭-এ বিশ্ব বাজারে পরিষেবা রফতানির ১০ শতাংশ যাতে ভারত থেকে হয়, তার রাস্তা খোঁজা হবে। নতুন প্রযুক্তির সুবিধা মহিলা, তরুণ, কৃষক, সকলের কছে পৌঁছনো দরকার।
দেশে পরিষেবা আমদানি থেকে পরিষেবা রফতানি অনেক বেশি। পরিষেবা ক্ষেত্রে রফতানির ৬০ শতাংশই হয় তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র থেকে। মোদী সরকার সমস্ত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতেও পরিষেবা ক্ষেত্রকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রাখছে।
অর্থমন্ত্রী বাজেটে বার্তা দিয়েছেন, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েশন’ থেকে বয়স্কদের দেখভাল, পর্যটনের মতো নতুন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ বাড়ছে। বিশেষ করে পর্যটন ক্ষেত্রে বিপুল কর্মসংস্থান, বিদেশি মুদ্রার আয় ও স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী বর্তমান হোটেল ম্যানেজমেন্টের জাতীয় পরিষদকে জাতীয় প্রতিষ্ঠানের স্তরে উন্নীত করার কথা ঘোষণা করেছেন। হস্তিনাপুর, সারনাথ, রাখিগঢ়হী, লোথাল, লেহ প্যালেস, ধোলাবীরার মতো ১৫টি পুরাতাত্ত্বিক স্থানকে উন্নয়ন করে পর্যটনর গন্তব্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।