বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মির এই দুই তরুণী হামলাকারীই আত্মঘাতী হামলার নেপথ্যে রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত।
শনিবার থেকে পর পর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশ। তার কোনওটি আত্মঘাতী, কোনওটি নয়। এই সমস্ত হামলার অধিকাংশের নেপথ্যেই ছিলেন দুই তরুণী হামলাকারী। রবিবার তাঁদের ছবি প্রকাশ্যে এনেছে বালোচ বিদ্রোহীরা। হামলার পর পাকিস্তানি সেনার ৪০ ঘণ্টার অভিযানে বালোচিস্তানে ১৪৩ জন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি। প্রাণ গিয়েছে অনেক সেনা জওয়ান এবং সাধারণ নাগরিকেরও।
বালোচিস্তানে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই নাজেহাল পাক সরকার। রবিবার তারা একটি বিবৃতি দিয়ে জানায়, বালোচিস্তানের কোয়েটা, নুশকি, মাসটাং, ডালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, গদর এবং পাসনিতে একাধিক জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার নেপথ্যে ‘বিদেশি শক্তি’কে দায়ী করা হয়। এমনকি, ভারতের দিকেও আঙুল তোলে ইসলামাবাদ। দাবি ছিল, ভারতের মদতপুষ্ট জঙ্গিরাই নাকি বালোচিস্তানে এমন প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। এর পরেই বালোচিস্তানের বিস্তীর্ণ অংশে অভিযানে নামে পাক সেনা। নিকেশ করা হয় জঙ্গিদের। তবে স্থানীয় সূত্রে সাধারণ নাগিরকদের উপর সেনার অকারণ অত্যাচারের অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছে।
বালোচিস্তানে সমস্ত সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের দায় স্বীকার করেছে বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। তারা দু’জন তরুণী আত্মঘাতী হামলাকারীর (সুইসাইড বম্বার) ছবি প্রকাশ করেছে। তাঁদের মধ্যে এক জন ২৪ বছরের আসিফা মেঙ্গল। দ্বিতীয় জনের ছবি থাকলেও নাম জানা যায়নি। হামলাকারীদের মধ্যে যে দু’জন তরুণী ছিলেন, মেনে নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফও।
বিএলএ বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলাকারী আসিফা নিজের ২১তম জন্মদিনে তাদের মজিদ ব্রিগেডে যোগ দেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি আত্মঘাতী হামলাকারী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। শনিবার নুশকিতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সদর দফতরে হামলা চালিয়েছেন এই আসিফাই। হামলাকারী দ্বিতীয় তরুণীর একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে বালোচ বিদ্রোহীরা। আত্মঘাতী হামলার ঠিক আগে সেই ভিডিয়ো রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে অন্য এক জনের সঙ্গে তরুণীকে কথা বলতে দেখা গিয়েছে। হাতে বন্দুক নিয়ে হাসতে হাসতে তিনি বলেছেন, ‘‘ওরা (পাক সরকার) আমাদের মা-বোনেদের দমিয়ে রাখতে শুধু গায়ের জোর দেখায়। সরাসরি আমাদের মুখোমুখি হতে পারে না। সেই ক্ষমতা নেই। আমাদের জাগতে হবে।’’
পাক সেনা দাবি করেছিল, দেশের বাইরে থেকে বালোচ বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। ভারত থেকে এই সমস্ত জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল তারা। রবিবারই ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সেই দাবি উড়িয়ে দেয়। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, পাকিস্তানের দাবি ভিত্তিহীন। তাদের উচিত, বালোচিস্তানের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের দিকে মনোযোগ দেওয়া।