Singur TMC Meeting

প্রধানমন্ত্রী মোদীর সভার ২৪ ঘণ্টা আগে সিঙ্গুরে জনসভা তৃণমূলের, হাতিয়ার সেই এসআইআর ইস্যু

প্রধানমন্ত্রীর সভা ঘিরে সাজো সাজো রব সিঙ্গুরে। শনিবারই জাতীয় সড়কের পাশে সাদা-গেরুয়া রঙের কাপড় দিয়ে বাঁশের ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। সমাবেশে যোগ দেওয়া বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বসবার জন্য প্রায় পঞ্চাশ হাজার প্লাস্টিকের চেয়ার পাতা হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২১
সিঙ্গুরে তৃণমূলের সভায় বেচারাম মান্না, করবী মান্নারা।

সিঙ্গুরে তৃণমূলের সভায় বেচারাম মান্না, করবী মান্নারা। —নিজস্ব ছবি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভার ঠিক আগের দিন সিঙ্গুরে জনসভা করে বিজেপিকে তোপ দাগল তৃণমূল। শনিবার সিঙ্গুরের বড়া এলাকায় জনসভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, বেচারাম মান্না, বিধায়ক করবী মান্না, রাজ্য তৃণমূলের নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার প্রমুখ। শনিবার বেচারামদের ঘোষণা, হুগলি জেলায় তিন দিন মেগা সভা করবেন তাঁরা।

Advertisement

অন্য দিকে, প্রধানমন্ত্রীর সভা ঘিরে সাজো সাজো রব সিঙ্গুরে। শনিবারই জাতীয় সড়কের পাশে সাদা-গেরুয়া রঙের কাপড় দিয়ে বাঁশের ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। সমাবেশে যোগ দেওয়া বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বসবার জন্য প্রায় পঞ্চাশ হাজার প্লাস্টিকের চেয়ার পাতা হয়েছে। বড় বড় এলইডি স্ক্রিন বাসনো হয়েছে মাঠে। গাড়ি পার্কিং করার ব্যবস্থা থাকছে।

তৃণমূলের দাবি, হুগলির ওই আন্দোলনের ভূমিকে ছিনিয়ে নিতে চায় বিজেপি। কিন্তু সিঙ্গুরের মানুষই তা হতে দেবেন না। স্থানীয় বিধায়ক করবী মান্নার খোঁচা, ‘‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আসছেন আগামিকাল। আবার মিথ্যার ঝুলি নিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে দেবেন সকলকে। বছরে ২ কোটি বেকারের চাকরি, মেয়েদের জন্য অনেক কিছু ঘোষণা করেছিলেন। তার পর মানুষকে শুধু লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে শিখিয়েছেন। এখন বিডিও অফিসগুলোতে এসআইআরের জন্য মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।’’

মন্ত্রী বেচারাম জানান, তাঁদের সরকার শিল্পবিরোধী নয়। আগেও তারা শিল্পের পক্ষে ছিলেন। এখনও তা-ই। ন্যানো কারখানার জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘সে দিন চার ফসলি জমির জোর করে অধিগ্রহণের প্রতিবাদ করেছিলাম আমরা। তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীর সঙ্গে কথা হয়েছিল, ৩৪০ একর জমি চাষিদের ছেড়ে দেওয়া হবে। তার পর কৃষিজমি রক্ষা কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু বিজেপি দলটাও সিপিএমের মতো— গিরগিটি। রং বদলায়। পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বাংলার সংস্কৃতি একসময় ভারতবর্ষকে পথ দেখিয়েছে। নেতাজি, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথের সংস্কৃতি আজও বাংলার বুকে বয়ে নিয়ে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির কাছ থেকে আমাদের সংস্কৃতি শিখতে হবে না।’’

তৃণমূলের দাবি, ‘গণআন্দোলনের পুণ্যভূমি’ সিঙ্গুরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। কিন্তু তা হবে না। বেচারামের কথায়, ‘‘সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করছে বিজেপি। সিঙ্গুরের মানুষ মিথ্যা পছন্দ করেন না। আগামী বিধানসভা ভোটে সিঙ্গুরবাসী বিজেপিকে দূরে ঠেলে দেবে। সারা রাজ্যের মানুষ বিজেপিকে ছুড়ে ফেলে দেবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আগামিকাল প্রধানমন্ত্রীকে জবাব দিতে হবে কেন একশো দিনের কাজের টাকা বন্ধ হল। কেন আবাস যোজনার টাকা পেল না বাংলা। মিথ্যাচার করলে মঞ্চ বেঁধে সভা করবে তৃণমূল।’’

Advertisement
আরও পড়ুন