Howrah Arrest Case

তৃণমূল নেতা, ট্রাফিক হোমগার্ড এবং গুন্ডা, নানা অভিযোগে ধৃত তিনমূর্তিকে অন্তর্বাস পরিয়ে রাস্তায় হাঁটাল পুলিশ!

তিনটি আলাদা ঘটনায় গ্রেফতার তৃণমূল নেতা, ট্রাফিক হোমগার্ড এবং ‘ডন’। আদালতে হাজির করিয়ে তাঁদের তিন জনকেই কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় হাঁটাল হাওড়ার তিন থানার পুলিশ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ২১:০৪
Howrah City Police

নানা অপরাধে অভিযুক্ত, শাস্তি একই রকম। —নিজস্ব চিত্র।

অপরাধ করলে রেয়াত নয়! তোলাবাজি হোক বা দুষ্কৃতীমূলক কার্যকলাপ, শাস্তি পেতেই হবে। অপরাধীদের বার্তা দিতে একই রকম তিনটি ছবি দেখা গেল হাওড়ায়। যে পুলিশকে একদা দুষ্কতীর ভয়ে টেবিলের তলায় লুকোতে দেখা গিয়েছে, তাদেরই দেখা গেল ঠিক অন্য মহিমায়। বোমাবাজির অভিযোগে ধৃত তৃণমূল নেতা শমিম আহমেদ ওরফে বড়ে, তোলাবাজির অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়া হোমগার্ড শাহিন মোল্লা এবং পুলিশের উপরে হামলাকারী ‘ডন’ আকাশ সিংহের কোমরে দড়ি বেঁধে স্যান্ডো গেঞ্জি এবং বক্সার পরিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরাল পুলিশ।

Advertisement

এলাকায় তোলাবাজির অভিযোগে সম্প্রতি গ্রেফতার হয়েছেন সাঁকরাইলের ট্রাফিক হোমগার্ড শাহিন ওরফে। বাড়ি থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়েছে। সোমবার তাঁকে হেফাজতে নিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরায় সাঁকরাইল থানার পুলিশ।

গত ২৩ মে গ্রেফতার হয়েছেন সানি। তার আগেই চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাঁকে। অভিযোগ, পদমর্যাদায় হোমগার্ড থাকলেও এলাকায় তাঁর প্রতাপ এবং প্রভাব দুই-ই ছিল। ক্ষমতার দম্ভে তোলাবাজি করেছেন। ভয় দেখিয়েছেন। সোমবার হাওড়া আদালতে তাঁকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

তার পর কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং সাঁকরাইল থানার পুলিশ যৌথ ভাবে সানির কোমরে দড়ি বেঁধে সাঁকরাইলের বেলতলা থেকে বিভিন্ন রাস্তায় হাঁটিয়েছে। সানি অবশ্য ওই ভাবে হাঁটতেও হাঁটতেও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেন।

শিবপুরের একদা প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শমিম ওরফে বড়েকেও একই ভাবে এলাকায় ঘুরিয়েছে শিবপুর থানার পুলিশ। সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং পুলিশ যৌথ ভাবে জিটি রোড এবং সংলগ্ন ট্রাম ডিপো এলাকায় তাঁর বাড়ির সামনে হাতকড়া পরিয়ে হাঁটিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মুম্বই থেকে গ্রেফতার করা হয় ওই তৃণমূল নেতা-সহ তিন জনকেও।

ভোট পরবর্তী হিংসায় চওড়া বস্তিতে বোমাবাজি এবং গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। গত ৭ মে থেকে তিনি ফেরার ছিলেন। হাওড়া আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক আট দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। বড়ের স্ত্রী সমিমা বানু তৃণমূলের কাউন্সিলর ছিলেন। বড়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় বেআইনি নির্মাণ, তোলাবাজি এবং গুন্ডাগিরি করতেন বলে অভিযোগ। কয়েক দিন আগে তাঁর বাড়িতে হানা দিয়ে গুপ্ত সিঁড়ি এবং দ্বিতলে আসবাবের প্রাচুর্য দেখে বিস্মিত হয়েছিল পুলিশ।

উত্তর হাওড়ার ‘ডন’ বলে পরিচিত আকাশের কোমরে দড়ি পরিয়ে রাস্তায় হাঁটানোর দৃশ্য হাওড়াবাসীর ‘চমকপ্রদ’ দৃশ্য। পুলিশকে গুলি করা থেকে নানা অপরাধের ঘটনায় অভিযুক্ত আকাশকে স্যান্ডো-বক্সার পরিয়ে বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে নানা অপরাধের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ।

‘ডন’-এর পরনে অন্তর্বাস। ঝুঁটি বাধা চুল এবং সযত্নে ছাঁটা দাড়ি উধাও। পুলিশ সূত্রে খবর, গরমের জন্য চুল-দাড়ি নিজেই কেটে ফেলার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন তিনি। ২০২১ সালে পুলিশকর্মীকে গুলি চালানো-সহ ২০টির বেশি অপরাধমূলক কাজে জড়িত আকাশকে চলতি মাসেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের বার্তা দিতে তিন অভিযুক্তকে এ ভাবে হাঁটানো হয়েছে। পুলিশের এই পদক্ষেপে অপরাধীরা অপরাধ কতটা কম করবেন, সেটা ভিন্ন বিষয়। তবে পুলিশকে এই ভাবে আগে দেখা যায়নি, বলছেন হাওড়াবাসীই।

Advertisement
আরও পড়ুন