Death Case

দাবিদার চার জন, হাওড়ায় মর্গে সৎকারের অপেক্ষায় বৃদ্ধার মৃতদেহ

পুলিশ জানায়, গত রবিবার রাত ৮টা নাগাদ হাওড়ার পিলখানা মোড়ে জি টি রোড সংলগ্ন একটি পুরনো দোতলা বাড়ির উপরতলার ঘরে বিধ্বংসী আগুন লাগে।

দেবাশিস দাশ
শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৮

—প্রতীকী চিত্র।

সম্পত্তির আসল উত্তরাধিকারী কে, কে-ই বা প্রকৃত নিকটাত্মীয়, এই প্রশ্ন ঘিরে জটিলতা তৈরি হওয়ায় পাঁচ দিন ধরেহাওড়ার পুলিশ মর্গে পড়ে রয়েছে এক বৃদ্ধার মৃতদেহ। পুলিশ জানিয়েছে, গত রবিবার রাতে রুম হিটার থেকে শর্ট সার্কিট হওয়ায় ঘরে আগুন লেগে গিয়ে পুড়ে মৃত্যু হয় হাওড়ার গোলাবাড়ি থানা এলাকার পিলখানার বাসিন্দা রাধারানিসাউয়ের (৭০)। সেই ঘটনার পরেই মৃতার দেহ শ্মশানে নিয়ে যেতে হাজির হন মোট চার জন দাবিদার। সকলেরই দাবি, তিনিই প্রকৃত উত্তরাধিকারী। ফলে, এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।পুলিশের বক্তব্য, দাবিদারেরা কেউই প্রয়োজনীয় শংসাপত্র বা নথি দেখাতে পারেননি। যার ফলে দ্বন্দ্বেরও অবসান ঘটানো যায়নি। যে কারণে পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও বৃদ্ধার মৃতদেহ এখনও কারও হাতেই তুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, গত রবিবার রাত ৮টা নাগাদ হাওড়ার পিলখানা মোড়ে জি টি রোড সংলগ্ন একটি পুরনো দোতলা বাড়ির উপরতলার ঘরে বিধ্বংসী আগুন লাগে। পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছিল, দোতলার যে ঘরে আগুন লাগে, সেই ঘরেই থাকতেন ওই ঠিকা-প্রজা জমির একমাত্রস্বত্বাধিকারী রাধারানি। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে একাই নিজের অংশে বসবাস করতেন নিঃসন্তানওই বৃদ্ধা। তাঁর দুই ভাইপোর মধ্যে দুলু সাউ নামে এক জন বৃদ্ধার দেখাশোনা করতেন বলে জানা গিয়েছে। এ জন্য অটোচালক ওই ভাইপোকে সম্পত্তির একাংশ লিখে দেনবৃদ্ধা। কিন্তু জটিলতা তৈরি হয় তাঁর মৃত্যুর পরে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুলু যে ওই বৃদ্ধার ভাইপো এবং রাধারানি যেতাঁরই পিসি, তার প্রমাণপত্র লাগবে। একই কথা জানানো হয় বাকি তিন জন দাবিদারকেও। কিন্তুপাঁচ দিন কেটে গেলেও কোনও পক্ষই আইনি প্রমাণত্র দাখিল করতে পারেননি। তাই বৃদ্ধার সৎকারও আটকে রয়েছে অনির্দিষ্ট কালের জন্য।

দুলু বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে থাকা ওই বাড়ির বর্তমান বাজারদরকয়েক কোটি টাকা। সেই সম্পত্তির লোভেই পিসি মারা যাওয়ার পরে এত লোক দাবিদার হিসেবে হাজির হয়েছেন। যদিও আমি ছাড়া কেউই পিসির দেখাশোনা করতনা।’’ দুলুর আইনজীবী অনিন্দ্য রায় বলেন, ‘‘আমার মক্কেলকে তাঁর পিসি আইন মেনে সম্পত্তিরএকাংশ লিখে দিয়েছিলেন। সেই কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। প্রয়োজনে তা নিয়েই আদালতে যাব।’’

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহের দাবিদারেরা সকলেই নিজেদের বৃদ্ধার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে দাবিকরলেও রাধারানির সঙ্গে সম্পর্কের আইনি নথি দেখাতে পারেননি তাঁদের কেউই। এই প্রসঙ্গে হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থকর্তা বলেন, ‘‘যিনি ওই বৃদ্ধার উত্তরাধিকারের বৈধ নথি ও শংসাপত্র জমা দেবেন, তাঁর হাতেই মৃতদেহ তুলে দেওয়া হবে।’’

আরও পড়ুন