Illegal Sand Mining

ভোটের মুখে ফের নদীর বালি চুরির অভিযোগ

গ্রামবাসীদের জানানো হয়েছে, কাজে কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে বিষয়টি সেচ দফতর এবং ভূমি দফতরে জানাতে।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩৩
চলছে বালি কাটা।

চলছে বালি কাটা।

প্রশাসনের সক্রিয়তায় নদনদী ঘেরা আরামবাগ মহকুমায় বালি চুরির অভিযোগ অনেকটা কমেছিল। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা ব্যস্ত হয়ে পড়ায় সেই অভিযোগ ফের শোনা যাচ্ছে।

রবিবার খানাকুলের উদনা সংলগ্ন মুণ্ডেশ্বরী নদীর শাখা হরিণাখালি থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘নো কস্ট টু গভর্নমেন্ট’ পদ্ধতিতে উত্তোলনের নামে দেদার বালি চুরির অভিযোগে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসী। পুলিশ গিয়ে বালি তোলার কাজ আপাতত বন্ধ করে। পুলিশ জানায়, অশান্তি এড়াতে কাজটি এ দিন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। গ্রামবাসীদের জানানো হয়েছে, কাজে কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে বিষয়টি সেচ দফতর এবং ভূমি দফতরে জানাতে। তারাই দেখবে। ঠিকাদার সংস্থার দাবি, কোনও বেআইনি কাজ হয়নি।

গ্রামবাসীদের মধ্যে মসিয়ার রহমান খান, শেখ নিজামুদ্দিন, ইলিয়াস মণ্ডলদের অভিযোগ, সরকারি নজরদারির অভাবে ঠিকাদার নদীর পাড় ঘেঁষে গভীর গর্ত করে যথেচ্ছ বালি তুলছে। সেই বালি সরকারি কাজে ব্যবহার করার কথা থাকলেও স্থানীয় স্তরেও বেআইনি ভাবে বিক্রি হচ্ছে। সর্বোপরি, গভীর গর্ত হওয়ায় পাড় ভেঙে গ্রাম বিপন্ন হবে। তাঁদের দাবি, প্রশাসনিক নজরদারিতে কাজ হোক। একইসঙ্গে ঠিকাদার কত বালি তোলার অনুমোদন পেয়েছেন, আর কত বালি তুলছেন, তা কোথায় যাচ্ছে, সেই তদন্তও করা হোক।

ঠিকাদরের কাজ নিয়ে আপত্তি তুলে সংশ্লিষ্ট খানাকুল ১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য শেখ সদাতুল্লা হোসেনের অভিযোগ, “কাজটি অপরিকল্পিত ভাবে হচ্ছে। এতে উদনা ছাড়াও তাঁতিশাল, মাঝপুর, কনকপুর এবং কুড়কুড়ি গ্রাম বিপন্ন হবে। গত ১৩ মার্চ সরকারি সংশ্লিষ্ট সব দফতরে গণস্বাক্ষর সংবলিত অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও কোনও সুরাহা হয়নি।”

জেলা সেচ দফতরের এগজ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জিশু দত্ত বলেন, “এ দিনের বিক্ষোভ বা অভিযোগ নিয়ে আমার কিছু জানা নেই। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দেখা হবে।” মহকুমা ভূমি দফতরও থেকেও অভিযোগ মেলেনি বলে জানানো হয়েছে। এই দুই দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দেখা হবে নির্দিষ্ট মাপের বেশি গভীর করে কোথাও মাটি বা বালি তোলা হয়েছে কি না। বালি বা মাটি কাটার ক্ষেত্রে পাড় বা বাঁধের ধস হতে পারে কি না এবং সরকারের ঘরে জমা পড়া রাজস্ব অনুযায়ী মাটি না বালি কাটা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ‘নো কস্ট টু গভর্নমেন্ট’ পদ্ধতিতে কাজে গত নভেম্বর মাস পর্যন্ত মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় বালি চুরির অভিযোগ উঠছিল। তা নিয়ে ওই মাসের শেষ দিকে আরামবাগের রাগপুর এবং পুরশুড়ার ভেউটিয়ায় তদন্তে আসেন রাজ্য সেচ দফতরের আধিকারিকেরা। তারপর থেকে আর বেআইনি ভাবে বালি তোলার অভিযোগ না উঠলেও ভোটের মুখে তা নিয়ে ফের সরব হলেন গ্রামবাসী।

আরও পড়ুন