Dowry Death Case

বিয়ের ৯ মাসের মধ্যে শ্বশুরবাড়িতে মৃত্যু বধূর! স্বামী এবং শ্বশুর-শাশুড়িকে দোষী সাব্যস্ত করল চুঁচুড়া আদালত

২০১৭ সালের ২ মার্চ হুগলির মগরার বাসিন্দা স্বর্ণময়ী মণ্ডল এবং জিরাটের সঞ্জিত রাজবংশীর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ৫০ হাজার টাকা নগদ দাবি করেছিল পাত্রের পরিবার। তা ছাড়া গয়না এবং আসবাবপত্র চাওয়া হয়েছিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ২১:১০
Court

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বিয়ের ন’মাস কাটতে না কাটতেই তাঁর মৃত্যুসংবাদ পেয়েছিলেন বাবা-মা। অভিযোগ, ১৫ হাজার টাকা যৌতুক দিতে না পারায় মেয়ের উপর অত্যাচার চালাতেন স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যেরা। অপমান, অত্যাচারে আত্মঘাতী হন যুবতী। শুক্রবার ওই বধূর স্বামী এবং শ্বশুর-শাশুড়িকে দোষী সাব্যস্ত করল চুঁচুড়া আদালত। মৃতার বাবা-মা আশাবাদী, দেরিতে হলেও অবশেষে সুবিচার পাবেন তাঁরা এবং তাঁদের মৃত মেয়ে।

Advertisement

আদালত সূত্রে খবর, ২০১৭ সালের ২ মার্চ হুগলির মগরার বাসিন্দা স্বর্ণময়ী মণ্ডল এবং জিরাটের সঞ্জিত রাজবংশীর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ৫০ হাজার টাকা নগদ দাবি করেছিল পাত্রের পরিবার। তা ছাড়া গয়না এবং আসবাবপত্র চাওয়া হয়েছিল। স্বর্ণময়ীর বাবা প্রশান্ত মণ্ডল সেই সমস্ত জিনিস দিয়ে মেয়ের বিয়ে দেন। কিন্তু পণে নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা দিতে পারেননি। দিয়েছিলেন ৩৫ হাজার টাকা।

অভিযোগ, ওই ১৫ হাজার টাকার জন্য নববিবাহিতার উপর অত্যাচার শুরু করেন তাঁর স্বামী এবং শ্বশুর-শাশুড়ি। স্বর্ণময়ীর বাপের বাড়ির দাবি, মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন করা হত তাদের মেয়েকে। মেয়ের সংসার যাতে বাঁচে, সে জন্য বার কয়েক মিটমাটের চেষ্টা করেন প্রশান্ত। কিন্তু সবহ চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি মেয়ের মৃত্যুসংবাদ পান তাঁরা। জানা যায়, শ্বশুরবাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন স্বর্ণময়ী।

ঘটনাক্রমে বলাগড় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন কন্যাহারা পিতা। বধূ নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। শুক্রবার, আট বছর পর ওই মামলায় তিন জনকে দোষী সাব্যস্ত করলেন চুঁচুড়া আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক শুভ্রা ভৌমিক ভট্টাচার্য। আগামী সোমবার সাজা ঘোষণা করবেন তিনি।

হুগলি জেলা আদালতের মুখ্য সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মোট আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে ওই মামলায়। ৪৯৮ এ, ৩০৪/বি ৩ এবং ৪ ডিপি অ্যাক্টে মামলা রুজু হয়। বধূ নির্যাতন এবং আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় বধূর স্বামী সঞ্জিত রাজবংশী, শ্বশুর কৃষ্ণচন্দ্র রাজবংশী এবং শাশুড়ি ঝর্না রাজবংশীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। আগামী ২৭ তারিখ সাজা ঘোষণা হবে।’’

কন্যাহারা দম্পতি সবিতা এবং প্রশান্ত মণ্ডল আশা করছেন, জামাই এবং বেয়াইয়ের ‘দৃষ্টান্তমূলক সাজা’ দেবে আদালত।

Advertisement
আরও পড়ুন