SIR Notice

এত দিন জানতেন তাঁরা চার ভাই, আরও দুই সহোদর আছে! হাজিরা দিয়ে রেগেও হাসছেন হুগলির যুবক

শনিবার হুগলির বাঁশবেড়িয়ার অনেক বাসিন্দা হাজির হয়েছিলেন শুনানিকেন্দ্রে। তাঁদেরই এক জন দিলশাদ আনসারি। বাঁশবেড়িয়ার সপ্তগ্রাম পঞ্চায়েতের ৮৭ নম্বর বুথের ভোটার তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪৯
SIR Notice

শুনানিকেন্দ্রের সামনে নোটিস হাতে দিলশাদ আনসারি। —নিজস্ব ছবি।

এনুমারেশন ফর্ম (গণনাপত্র) যথাযথ ভাবে পূরণ করেছেন। ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল। তাঁর বাবার নামও ছিল। কিন্তু তার পরেও এসআইআরে শুনানির জন্য হাজির হতে হয়েছে হুগলির দিলশাদ আনসারিকে। কেন? প্রশ্ন শুনে বিরক্তিপ্রকাশ করলেন। গম্ভীর হতে গিয়ে হেসেই ফেললেন সেই যুবক। তার পর ধীরে ধীরে বললেন, ‘‘জানতাম না তো আমার বাবার আরও দুই ছেলে আছে! এখন আমি যে আমার বাবার ছেলে, তারই প্রমাণ দিতে এলাম।’’

Advertisement

শনিবার হুগলির বাঁশবেড়িয়ার অনেক বাসিন্দা হাজির হয়েছিলেন শুনানিকেন্দ্রে। তাঁদেরই এক জন দিলশাদ আনসারি। বাঁশবেড়িয়ার সপ্তগ্রাম পঞ্চায়েতের ৮৭ নম্বর বুথের ভোটার তিনি। দিলশাদ জানান, কয়েক পুরুষ ধরে তাঁদের বাঁশবেড়িয়াতে বাস। নিয়মিত ভোট দেন। এসআইআরের জন্য প্রয়োজনীয় গণনাপত্রও পূরণ করেছেন। তার পরেও শুনানির নোটিস পেয়েছেন। দিলশাদ বলেন, ‘‘জন্মের পর থেকে জানতাম আমরা চার ভাই। এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পরে জানতে পারলাম, আমরা ছয় ভাই!’’

দিলশাদ জানান, তাঁকে তলবের কারণ হিসাবে দেখানো হয়েছে, তাঁর বাবার ছয় পুত্র। তিনি বলেন, ‘‘তলবের কারণ দেখে আমার নিজের হাসি পাচ্ছে। বলা হয়েছে, আমার বাবার নাকি ছয় সন্তান। আমাদের চার ভাই বাদে আরও দু’জন আমাদের বাবাকে তাঁদের বাবা বলে দাবি করেছেন। কী করি বলুন তো?’’

যুবকের অভিযোগ, তিনি যে বুথের ভোটার সেখানে মোট ভোটার সাড়ে আটশোর আশেপাশে। ৮০ শতাংশ ভোটারই শুনানির নোটিস পেয়েছেন। লাইনে তাঁর সামনে-পিছনে একই বুথের বাসিন্দাকে দেখে দিলশাদ বলেন, ‘‘এরা সব ভুয়ো ভোটার?’’ মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ওই যুবক। কাজ ফেলে লাইন দিয়ে ‘বাবার ছেলে’ প্রমাণ দিতে গিয়ে তাঁর কটাক্ষ, ‘‘২০১১ সাল থেকে মানুষ শুধু লাইনেই আছে। নোটবন্দির লাইন। কোভিডের লাইন। টিকা নেওয়ার লাইন। এ বার আমাকে প্রমাণ দিতে হবে আমি আমার বাবার ছেলে নাকি! তাতেও লাইন।’’

শনিবার শুনানিকেন্দ্রে হাজির হয়েছেন বয়স্করাও। সেই নিয়েও অভিযোগ অনেক। শুধু শুনানির জন্যই বিদেশ থেকে ফেরা মহম্মনদ সাবির খান বলেন, ‘‘ইমার্জেন্সি ছুটি নিয়ে সৌদি আরব থেকে বাড়ি এলাম। এসআইআরের শুনানিতে হাজির হতে হবে যে!’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘শুনানিতে ডাকা হচ্ছে এমন অনেককে যাঁরা এখন বিদেশে। আমি না-হয় চাকরি করি বলে ছুটি পেলাম। সৌদিতে এমন প্রচুর মানুষ রয়েছেন যাঁরা শ্রমিকের কাজ করেন। চট করে কাজ ছেড়়ে তাঁদের পক্ষে বাড়ি ফেরাও সম্ভব নয়। আবার সেটা হলে খরচ বহন করাও অনেকের পক্ষে অসম্ভব। তাঁদের নিয়ে সরকার কি কোনও ভাবনাচিন্তা করেছে? জানি না। আমাকে তো আসতেই হল।’’

Advertisement
আরও পড়ুন