SIR related Death Allegation

গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী শান্তিপুরের তাঁতশিল্পী, পরিবার দুষল এসআইআরকে, কমিশনের বিরুদ্ধে মামলার হুঁশিয়ারি

শান্তিপুরের ঢাকাপাড়ার বাসিন্দা সুবোধের বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, ২০১০ সালে তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত হয়েছিল। কিন্তু ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে তথ্যজনিত কিছু অসঙ্গতি থাকায় চলতি মাসের ৪ তারিখ নির্বাচন কমিশনের তরফে নোটিস আসে বাড়িতে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৩

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে আবার আত্মহত্যার অভিযোগ উঠল রাজ্যে। এ বার ঘটনাস্থল নদিয়ার শান্তিপুর। পরিবারের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নোটিস পেয়ে গলায় ফাঁস দেন প্রৌঢ় তাঁতশিল্পী। মৃতের নাম সুবোধ দেবনাথ (৫৬)। শনিবার সকালে শান্তিপুরের কামারপাড়া এলাকায় একটি তাঁত কারখানার গ্যারাজ থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

Advertisement

শান্তিপুরের ঢাকাপাড়ার বাসিন্দা সুবোধের বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, ২০১০ সালে তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত হয়েছিল। কিন্তু ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে তথ্যজনিত কিছু অসঙ্গতি থাকায় চলতি মাসের ৪ তারিখ নির্বাচন কমিশনের তরফে নোটিস আসে বাড়িতে। শুনানির নোটটিস পেয়েই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন সুবোধ। শুনানিতে যেতে হবে শুনেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন ওই তাঁতশিল্পী।

সুবোধের স্ত্রী অসুস্থ। দম্পতির এক পুত্র। অনটনের সংসার। তাঁদের দাবি, আইনি জটিলতায় আশঙ্কায় ভেঙে পড়েছিলেন সুবোধ। শেষ কয়েক দিন খাওয়াদাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরিচিতদের কাছে মাঝেমধ্যেই আক্ষেপ করে বলতেন, ‘‘এ বার বোধহয় বন্দি হতে হবে।’’ কাউকে আবার বলেছেন, ‘‘আমি কিছুতেই ‘হেয়ারিং-এ’ (শুনানিতে) যাব না।’’

শনিবার সকালে সুবোধের আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল শুরু হয়ে যায় এলাকায়। খবর পেয়ে শান্তিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তারা দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

প্রৌঢ়ের মৃত্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে মৃতের পরিবার। এক আত্মীয় জানান, কমিশনের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন। মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল।

তাঁতশিল্পীর মৃত্যুর নেপথ্যে শুধু এসআইআর না কি অন্য কোনও পারিবারিক বা আর্থিক কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Advertisement
আরও পড়ুন