SIR Work in West Bengal

‘শুনানিতে এসে দিন নষ্ট হলে চলবে কী ভাবে?’ নোটিস পেয়ে এসে চন্দননগরের মহকুমা অফিসে ভিক্ষা করলেন বৃদ্ধা

রোজই এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা সংগ্রহ করেন ওই বৃদ্ধা। তাঁর বাড়িতেই দিন কয়েক আগে শুনানির নোটিস যায়। সেই নোটিস পেয়ে চিন্তায় পড়েন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪২
Old woman begs outside Hooghly hearing centre after receiving notice

এসআইআরের নোটিস হাতে শুনানিকেন্দ্রের বাইরে সেই বৃদ্ধা। —নিজস্ব চিত্র।

হুগলির চন্দননগর মহকুমাশাসকের অফিসের বাইরে লম্বা লাইন। নানা বয়সের মানুষ দাঁড়িয়ে এসআইআরের শুনানির লাইনে। সেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সকলের কাছে গিয়ে অশক্ত শরীর নিয়ে হাত পাতছেন এক বৃদ্ধা। ভিক্ষা করে পেট চলে তাঁর। তবে সেই বৃদ্ধাও এসআইআরের নোটিস পেয়ে এসেছিলেন। সেখানেই নিজের খাবারের বন্দোবস্ত করতে ভিক্ষা করতে দেখা গেল তাঁকে। বৃদ্ধার প্রশ্ন, ‘‘একটা দিন শুনানিতে এসে সময় নষ্ট হলে আমার চলবে কী করে?’’

Advertisement

ওই বৃদ্ধার নাম পারুল বন্দ্যোপাধ্যায়। চন্দননগর-২ নিরঞ্জন নগর এলাকার বাসিন্দা তিনি। বাড়িতে রয়েছে মেয়ে এবং নাতি। স্বামী মারা গিয়েছেন। আগে বাড়িতে বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালাতেন। কিন্তু পড়ে গিয়ে হাত ভাঙেন। হাতের সেই হাড় ভাল ভাবে জোড়া লাগেনি। সেই থেকেই এক হাত পঙ্গু। পরিচারিকার কাজও আর করতে পারেন না। তাই ভিক্ষাই সম্বল।

রোজই এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা সংগ্রহ করেন পারুল। তাঁর বাড়িতেই দিন কয়েক আগে শুনানির নোটিস যায়। সেই নোটিস পেয়ে চিন্তায় পড়েন তিনি। প্রতিবন্ধী কার্ডও রয়েছে তাঁর। তার পরেও তাঁর কাছে শুনানিকেন্দ্রে যাওয়ার নোটিস যায়। কী ভাবে একটা দিন শুনানিতে গিয়ে নষ্ট করবেন, তা ভেবেই পাচ্ছিলেন না পারুল। তবে কমিশনের নির্দেশ মেনে বৃহস্পতিবার চন্দননগর মহকুমাশাসকের অফিসে শুনানিকেন্দ্রে হাজির হন তিনি। সঙ্গে ছিল তাঁর পরিচিত ঝোলা ব্যাগ। সেখানে অনেক লোককে দেখে ঠিক করেন সেখানেই ভিক্ষা করবেন!

১৯৭২ সাল থেকে ভোট দিচ্ছেন বলে দাবি করেন পারুল। তাঁর আক্ষেপ, ‘‘এত দিন ভোট দিচ্ছি। তার পরেও আমাকে ডেকেছে। শুনানিতে সময় নষ্ট হলেও কাউকে কিছু বলার নেই।’’ পারুলের কথায়, ‘‘ভাঙা হাতে আর কাজ করতে পারি না। তাই চেয়েচিন্তে চলে। আগে মেয়ে আয়ার কাজ করত এখন সে-ও বাড়িতে বসা। আমার তাই বসে থাকার জো নেই।’’

Advertisement
আরও পড়ুন