এমন পথে যাতায়াত। উলুবেড়িয়ার নরেন্দ্র মোড়ে মুম্বই রোডের সার্ভিস রোডে। নিজস্ব চিত্র ।
রাস্তা জুড়ে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টি পড়লে সেই গর্ত ডুবে যায় জলে। বিপদের আঁচ করতে না পেরে তাতেই উল্টে পড়ছেন মোটরবাইক আরোহীরা। এমনই বেহাল দশা গ্রামীণ হাওড়ায় মুম্বই রোডের সার্ভিস রোডের বেশ কিছু অংশের। এমনকি, মুম্বই রোডের নানা অংশে দিনের পর দিন আলো না জ্বলার অভিযোগ উঠেছে। তার জেরেও দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ।
হাওড়া গ্রামীণ জেলা ট্রাফিক পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘রাস্তা সংস্কার ও আলো জ্বালানোর জন্য জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে বার বার বলা হচ্ছে। আশা করা যায় শীঘ্রই সমস্যা মিটবে।’’ মুম্বই রোড দেখভাল করে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই)। সংস্থার এক কর্তা বলেন, ‘‘সার্ভিস রোডের যে অংশ বেহাল, তা শীঘ্র মেরামত করা হবে। আর পথবাতির তার চুরি হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছে। সমস্যা দ্রুত মিটবে।’’
গ্রামীণ হাওঢ়ার রানিহাটি থেকে কোলাঘাট সেতুর আগে পর্যন্ত প্রায় ৪৬ কিলোমিটার বিস্তৃত মুম্বই রোড। বেশ কিছু জায়গায় রয়েছে সার্ভিস রোড, যেখান দিয়ে গ্রামে যাওয়ার রাস্তা রয়েছে। এখান দিয়েই যাতায়াত করে অটো, টোটো, বাস, সাইকেল ও মোটরবাইক। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, এত গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার খেয়াল রাখে না স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। গত বর্ষায় কিছুটা জোড়তালি দিয়ে কাজ হয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকে আর সার্ভিস রোড মেরামত করা হয়নি।
এলাকাবাসী জানান, বেশির ভাগ সময়ে সার্ভিস রোড জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকে বড় ট্রাক। কাটিয়ে যাতায়াত করতে হয়। উলুবেড়িয়া মনসাতলার কাছে সার্ভিস রোডে বৃষ্টি হলেই জমে যায় এক হাঁটু জল। নিমদিঘির কাছে সার্ভিস রোড জুড়ে কিছু ব্যবসায়ী টিন ও পুরনো আসবাবপত্রের ব্যবসা শুরু করেছেন। উল্টো দিকে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে সার্ভিস রোড দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে রয়েছে। একই অবস্থা উলুবেড়িয়ার নরেন্দ্র মোড়েও।
বাইক আরোহীদের অভিযোগ, ওই পথে যাঁরা নিয়মিত যাতায়াত করেন, তাঁরা তা-ও গর্তের আন্দাজ করতে পারেন। কিন্তু যাঁরা মাঝেমধ্যে ওই রাস্তায় বাইক নিয়ে যান, তাঁরা প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়ছেন। এক টোটোচালকের কথায়, ‘সব চেয়ে খারাপ অবস্থা হয় বর্ষাকালে। চলার সময়ে তা বুঝতে না পারায় গাড়ি গর্তে পড়ে যন্ত্রাংশ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।’’
বর্তমানে মুম্বই রোড দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সপ্তাহে অন্তত দু’দিন যাতায়াত করেন। তাঁর যাতায়াতের সময় সমস্ত ট্রাক-লরি সার্ভিস রোডে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। আরও সমস্যায় পড়েন যাত্রীরা।