ভেঙে দেওয়া হচ্ছে তৃণমূলের কার্যালয়। নিজস্ব চিত্র।
দীর্ঘদিন ধরে উলুবেড়িয়া ২ ব্লকের বাসুদেবপুর পঞ্চায়েতের চকবৃন্দাবনপুর নিম্ন বুনিয়াদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের একাংশ দখল করে তৃণমূলের কার্যালয় চালানোর অভিযোগ ছিল। বৃহস্পতিবার বুলডোজ়ার দিয়ে তা ভেঙে দিল প্রশাসন। মাঠ ফিরে পেয়ে খুশি স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং পড়ুয়ারা।
প্রধান শিক্ষক শশীশেখর রানা বলেন, ‘‘খেলার মাঠ বড় হল। স্কুলের সীমানা প্রাচীর ও গেট তৈরি করা যাবে। ছাত্রদের নিরাপত্তাও বাড়ানো যাবে।’’
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৪৬ সালে গ্রামবাসীদের উদ্যোগে গ্রামের নামেই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তৈরি হয়। অভিযোগ, তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরেই স্কুলের খেলার মাঠের একাংশ দখল করে রাস্তার ধারে একটি ক্লাবঘর তৈরি করে। পরে সেই ক্লাবঘরই দলীয় কার্যালয় হিসেবে তারা ব্যবহার করত। এর ফলে মাঠটি ছোট হয়ে যাওয়ায় পড়ুয়াদের খেলাধুলোয় সমস্যা হত।
প্রধান শিক্ষক জানান, ওই দলীয় কার্যালয় সরানোর জন্য আগে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে তিনি জানিয়েছিলেন। ওই কার্যালয় থাকার জন্য স্কুলে সীমা প্রাচীর দেওয়া যায়নি। স্কুলের বাৎসরিক ক্রীড়া ও নানা অনুষ্ঠান করার ক্ষেত্রেও সমস্যা হত। রাজ্যে পালা বদলের পরে বিষয়টি তিনি ফের স্থানীয় পঞ্চায়েত, বিধায়ক ও প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে জানান।
বাসুদেবপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান, বিজেপির শুভঙ্কর ঘোড়া বলেন, ‘‘তৃণমূল গায়ের জোরে স্কুলের খেলার মাঠ দখল করে দলীয় কার্যালয় করেছিল। এখন আইনের শাসন চলছে। তাই প্রশাসন বুলডোজ়ার দিয়ে ওই কার্যালয় ভেঙে দিয়েছে।’’ উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক বিজেপির চিরণ বেরা বলেন, ‘‘ভোটের প্রচারে গিয়ে স্কুলের মাঠে তৃণমূলের কার্যালয়ের কথা শুনি। গ্রামবাসীদের কথা দিয়েছিলাম, জিতলে মাঠ দখলমুক্ত করবই। জেতার পরে প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম।’’ এ নিয়ে তৃণমূলের কোনও নেতা মুখ খুলতে চাননি।