চুলের সমস্যায় কতটা কাজের বায়টিন গামি? রেখাচিত্র: শৌভিক দেবনাথ।
সারা বছরই কম-বেশি চুল পড়ে। কারও কারও আবার বর্ষাকালে চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদ— সকলেরই বক্তব্য শরীরে পর্যাপ্ত বায়োটিনের জোগান দেওয়া। শরীরে বায়োটিনের জোগান বাড়াতে ডায়েটে বেশি করে ডিম, দুধ, মুরগির মেটে, বিভিন্ন বাদাম, রকমারি বীজ আর মাছের তেল রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদেরা। নতুন চুল গজাতে এবং টাক পড়া বন্ধ করতে ইদানীং বায়োটিন গামি লজেন্স খাচ্ছেন কেউ কেউ। চটজলদি ফলাফল পেতে কতটা কাজের করে এই গামি লজেন্স?
চুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বায়োটিন হল ভিটামিন বি৭। যা নতুন চুল গজাতে এবং চুলের ফলিকলে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। বায়োটিন চুলে প্রাকৃতিক ভাবে কেরাটিন উৎপাদন করতেও সাহায্য করে। চুল, ত্বক এবং নখের গঠন মজবুত করতে সাহায্য করে এই কেরাটিন। নতুন চুল গজানোর প্রথম এবং প্রধান শর্ত হল নতুন কোষ তৈরি হওয়া। বায়োটিন নামক উপাদনটি চুলের ফলিকলগুলিকে উদ্দীপিত করে। ফলে নতুন চুল গজায় তাড়াতাড়ি।
অধিক মাত্রায় বায়োটিন গামিগুলি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটখারাপ, ডায়েরিয়া এবং হজমজনিত অন্যান্য সমস্যা হতে পারে। ছবি: শাটারস্টক।
চুলের সমস্যায় কতটা কাজের বায়টিন গামি?
চুলের সমস্যা দূর করতে বায়োটিন একান্ত জরুরি। দিল্লিনিবাসী চিকিৎসক নন্দিনী দাদু বলেন, ‘‘বায়োটিন জরুরি হলেও শরীরে ঠিক কতটা বায়োটিন যাচ্ছে, সে সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। বাজারে বিভিন্ন সংস্থা এখন বায়োটিন গামি নিয়ে এসেছে। বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই সেই গামি লজেন্স কিনে খাচ্ছেন। তবে শুধু মাত্র বায়োটিন গামি খেলে কিন্তু শরীরে বায়োটিনের ঘাটতি পূরণ হয় না। চুল পড়া বন্ধ করতে রোজ ৩০-৭০ মাইক্রোগ্রাম বায়োটিনের ডো়জ় খেতে হয়। বেশির ভাগ গামিতেই সেই ডো়জ়ের বায়োটিন থাকে না। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই বায়োটিনের সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত। চুলের সমস্যা মিটলে পরিচর্যার ক্ষেত্রে এই ধরনের গামি খাওয়া যেতে পারে। তবে এগুলিতে অধিক মাত্রায় চিনি থাকে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।’’
অধিক মাত্রায় এই গামিগুলি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটখারাপ, ডায়েরিয়া এবং হজমজনিত অন্যান্য সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসক বলেন, “এর উপাদানগুলির কারণে কারও কারও ক্ষেত্রে গুরুতর অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।” অ্যালার্জির লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে ত্বকে র্যাশ বা ফুসকুড়ি বেরোনো, শরীর ফুলে যাওয়া, চুলকানি, শ্বাসকষ্ট এবং তীব্র মাথা ঘোরা।
বায়োটিন গামি কেনার আগে কী কী মাথায় রাখতে হবে?
১) প্রথমে দেখে নিতে হবে গামিগুলিতে কী পরিমাণ বায়োটিন রয়েছে। বায়োটিনের উচ্চ মাত্রা চুলের শক্তি ও বৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে নিশ্চিত করুন যে, এর মাত্রা যেন দৈনিক চাহিদার পরিমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
২) এতে কী কী ভিটামিন ও খনিজ উপাদান যোগ করা হয়েছে, তা দেখে নিন। চুলের জন্য তৈরি অনেক গামিতে ভিটামিন এ, সি ও ই, বিভিন্ন বি-ভিটামিন, জ়িঙ্ক এবং ফলিক অ্যাসিডের মতো পুষ্টি উপাদান থাকে। বায়োটিনের সঙ্গে মিলে এগুলি চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। এমন একটি সুষম ফর্মুলা বা উপাদান-সমৃদ্ধ পণ্য বেছে নিতে যা চুল ও মাথার ত্বক—উভয়ের জন্যই উপকারী।
৩) খাদ্যগত বিধিনিষেধের বিষয়টি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি নিরামিষভোজী বা ভেগান হন কিংবা আপনার কোনও অ্যালার্জি থাকে, তবে এমন সব বিকল্প খুঁজুন যা জিলেটিন-মুক্ত, গ্লুটেন-মুক্ত এবং যাতে প্রাণীজ কোনও উপাদান নেই।