Abhishek Banerjee & Pratik Ur Rahman

আপাতত ঝড় সামলে নাও, পাশে আছি! প্রতীককে অভিষেক-বার্তা, কিছুদিনের মধ্যেই ক্যামাক স্ট্রিটে ডেকে বুঝিয়ে দেবেন দলের কাজ

গত লোকসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেকের বিরুদ্ধেই সিপিএমের প্রতীকে লড়েছিলেন প্রতীক-উর। তাঁকেই দলে নিলেন অভিষেক। সেই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ‘‘সিপিএমের মধ্যে এখনও যাঁরা রাস্তায় লড়াই করেন, তাঁদের মধ্যে প্রতীক-উর অন্যতম। উনি আমাদের দলে আসায় আমি খুশি।’’

Advertisement
শোভন চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:০০
শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরীয় পরিয়ে দিচ্ছেন প্রতীক-উর রহমানকে।

শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরীয় পরিয়ে দিচ্ছেন প্রতীক-উর রহমানকে। — নিজস্ব চিত্র।

আপাতত ঝড় সামলে থিতু হতে হবে। এই সময়ে পাশে থাকবেন। তার পর তাঁকে নিজের দফতরে ডেকে বুঝিয়ে দেবেন নতুন দলে তাঁর কাজ কী হবে। সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য প্রতীক-উর রহমান তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরে শনিবার তাঁকে এই বার্তাই দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

গত সোমবার সিপিএমের রাজ্য কমিটি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটি এবং পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা জানিয়ে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে চিঠি লিখেছিলেন প্রতীক-উর। বুধবার আনন্দবাজার ডট কম-কে প্রথম সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তরুণ নেতা দাবি করেছিলেন, সিপিএম তাঁকে তিন তালাক দিয়েছে। দলের একাংশের রাতের ঘুম হারাম করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সে দিনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সিপিএম চেষ্টাচরিত্র করলেও প্রতীক-উর লাল পতাকার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চলেছেন। বৃহস্পতিবার থেকে আভাস মিলতে শুরু করে, তৃণমূলের দিকেই পা বাড়াচ্ছেন তিনি। অবশেষে শনিবার অভিষেকের হাত থেকে জোড়াফুলের পতাকা নিলেন তিনি।

শনিবার বিকাল ৪টে ১০ মিনিট নাগাদ কালো কাচ তোলা সাদা এসইউভি চেপে দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় অভিষেকের সাংসদ কার্যালয়ে পৌঁছোন প্রতীক। সঙ্গে ছিলেন নিচুতলার আরও কয়েক জন সিপিএম নেতা-কর্মী। তার পর ভিতরে বেশ খানিক ক্ষণ কথা হয় দু’জনের। কী কথা হয়েছে, তা নিয়ে কেউই কিছু প্রকাশ্যে বলেননি। তবে সূত্রের খবর, অভিষেক আপাতত প্রতীককে বলেছেন, ঝড় সামলে থিতু হতে। তার পর তিনি ক্যামাক স্ট্রিটে ডেকে তৃণমূলে তাঁর কী কাজ হবে, সে প্রসঙ্গে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন।

গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে বামেদের একটি বড় অংশ সমাজমাধ্যমে লিখতে শুরু করেছে, চুক্তি করেই তৃণমূলের পথে প্রতীক-উর। সিপিএম ছেড়ে আসা নেতা অভিযোগ করেছেন, পুরনো দলের অনেকে তাঁর স্ত্রী সিরিন সুলতানাকেও ফোন করে নানাবিধ কটূক্তি করেছেন। তাঁর শিশুকন্যা কয়েক দিন ধরে জ্বরে আক্রন্ত। এই পরিস্থিতিতে মানসিক ভাবে প্রতীক-উর এবং তাঁর স্ত্রী বিপর্যস্ত বলেও দাবি তাঁদের ঘনিষ্ঠদের। সিপিএমের বড় অংশ যখন প্রতীক-উরকে নিশানা করে সমাজমাধ্যমে আক্রমণ শানাচ্ছে, তখন তাঁর সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। আর প্রতীক-উর বলেছেন, ‘‘আমার সঙ্গে তৃণমূলের ডিল হয়েছে। তা হল, এই রাজ্যে বিজেপি-কে ঢুকতে দেব না।’’

প্রতীক-উরকে পাশে নিয়ে শনিবার তৃণমূলের সেনাপতি বলেন, ‘‘সিপিএমের অনেকে লিখছে প্রতীক-উর নাকি ডিল করেছে। আমি না বললে অন্যায় হবে, ও নিজে আমায় বলেছে, দাদা আমি সংগঠন করতে চাই। বিধানসভা ভোটে টিকিট পাওয়ার জন্য আমি আসিনি।’’ সিপিএমের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, ‘‘যে ছেলেটা আপনাদের সঙ্গে ছিল, তাকেও আপনারা চিনলেন না।’’

প্রতীক-উর টিকিট না নেওয়ার কথা বললেও তৃণমূলের অন্দরে তাঁকে বিধানসভায় প্রার্থী করা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। শনিবার সেই জল্পনা আরও দানা বাঁধল, যখন দক্ষিণ ২৪ পরগনার অনেক বিধায়ক অভিষেকের সঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে এলেও, অনুপস্থিত কেবল মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক গিয়াসউদ্দিন মোল্লা। দলের অনেকের বক্তব্য, গত তিন বছর ধরে গিয়াসের যা কাজকর্মের ধরন, তাতে তিনি এ বার ফের টিকিট পেলে, সেটাই হবে আশ্চর্যের। ঘটনাচক্রে, প্রতীক-উরের নাম ভাসছে গিয়াসের আসনেই।

গত লোকসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেকের বিরুদ্ধেই সিপিএমের প্রতীকে লড়েছিলেন প্রতীক-উর। সেই তাঁকেই দলে নিলেন অভিষেক। সেই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ‘‘সিপিএমের মধ্যে এখনও যাঁরা রাস্তায় লড়াই করেন, তাঁদের মধ্যে প্রতীক-উর অন্যতম। উনি আমাদের দলে আসায় আমি খুশি।’’ তিনি এই রকম আরও লড়াকু ‘মুখ’কে তৃণমূলে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সন্দেহ নেই প্রতীক-উরের দল ছাড়ায় আলোড়িত সিপিএম। এমনকি বেশ কয়েক জন তরুণ নেতা-নেত্রীকে ঘিরে সন্দেহের বাতাবরণও তৈরি হয়ে গিয়েছে দলের মধ্যে।

শনিবার আমতলার কার্যালয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন অভিষেক। ডায়মন্ড হারবার থেকে আমতলা চত্বরে প্রতীক-উর পৌঁছে গিয়েছিলেন দুপুর ২টোরও আগে। কিন্তু কাছাকাছি জায়গায় তিনি অপেক্ষায় ছিলেন। তার পর সঙ্কেত পৌঁছোনোর পরে তিনি রওনা দেন অভিষেকের সাংসদ কার্যালয়ের উদ্দেশে। গাড়ি থেকে প্রতীক নামতেই নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে নিয়ে চলে যান ভিতরে। গাড়ি থামা এবং তা থেকে নেমে ভিতরে যাওয়ার দৃশ্য দেখে অনেকেরই মনে পড়ে গিয়েছে লোকসভা ভোটের আগে ব্রিগেডে তৃণমূলের মঞ্চে ওঠার আগে ইউসুফ পাঠানের গাড়ি থেকে নেমে অন্য গাড়িতে উঠে পড়া এবং অভিষেকের সঙ্গে বৈঠক। সেই মঞ্চ থেকেই ইউসুফকে লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুরের প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেছিল তৃণমূল। প্রতীক-উরও কি না-চাইলেও টিকিট পাবেন? দিন ১৫-র মধ্যেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

Advertisement
আরও পড়ুন