Cash For Query Case

‘ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন’: মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ নিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিগত লোকসভার সদস্য থাকাকালীন দুবাইয়ের শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানির কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনি সংসদে প্রশ্ন করেছিলেন। নিশানা করেছিলেন শিল্পপতি গৌতম আদানিকে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ১৩:৩৩
In Cash-for-query case, SC stays Delhi HC order allowing Lokpal to consider granting CBI sanction to file chargesheet against TMC MP Mahua Moitra

মহুয়া মৈত্র। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সংসদে ‘প্রশ্নের বিনিময়ে ঘুষ’ মামলায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর চার্জশিট পেশের উপর স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালত এই মামলায় মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের জবাবদিহি চেয়ে নোটিস পাঠিয়েছে। নোটিস পাঠানো হয়েছে মহুয়া এবং সিবিআই-কেও।

Advertisement

গত ১২ নভেম্বর প্রশ্ন-ঘুষ মামলায় মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআই-কে চার্জশিট জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল লোকপাল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাই কোর্টে মহুয়া মামলা করেছিলেন। দিল্লি হাই কোর্ট গত ২১ নভেম্বর স্থগিতাদেশের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। কিন্তু ১৯ ডিসেম্বর মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআই চার্জশিট বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ‘লোকপালের বিবেচনার’ উপর ন্যস্ত করে। সেই সঙ্গে ‘আইনগত ত্রুটি’র কথা জানিয়ে লোকপালের পুরনো নির্দেশ খারিজ করে নতুন করে চার্জশিট পেশের বিষয়ে বিবেচনার জন্য চার সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

এর পরে লোকপালের আবেদনে দু’মাস সময়সীমা বৃদ্ধি করলেও সিবিআই চার্জশিট পেশে ব্যর্থ হলে গত জানুয়ারিতে দিল্লি হাই কোর্ট আর সময়সীমা বাড়ায়নি। তার পরেই লোকপাল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ লোকপাল আইনের ২০ নম্বর ধারায় দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশে ‘লোকপালের বিবেচনাধীন’ অংশটিতে (৮৯ নম্বর অনুচ্ছেদ) স্থগিতাদেশ দিয়েছে।

মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিগত লোকসভার সদস্য থাকাকালীন দুবাইয়ের শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানির কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনি সংসদে প্রশ্ন করেছিলেন। নিশানা করেছিলেন শিল্পপতি গৌতম আদানিকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অস্বস্তিতে ফেলার জন্যই মহুয়া এই কাজ করেছিলেন বলে অভিযোগ জানিয়ে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে মহুয়াকে সাংসদপদ থেকে বরখাস্ত করার দাবি তুলেছিলেন ঝাড়খণ্ডের গোড্ডার বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত।

এ ছাড়া, তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তাঁর প্রাক্তন বান্ধব জয় অনন্ত দেহাদ্রাইও। ওই ঘটনায় এথিক্স কমিটির সুপারিশ মেনে ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর মহুয়ার লোকসভার সাংসদপদ খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল (যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আবার কৃষ্ণনগর কেন্দ্র থেকে জিতেই সাংসদ হন তিনি)। এর পরে অভিযোগ গড়ায় লোকপালের কাছে। লোকপালের নির্দেশে তদন্তের পরে সিবিআই তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, ঘুষ নিয়ে সংসদে মোট ৬১টি প্রশ্ন করেছিলেন মহুয়া। তার মধ্যে তিনটি প্রশ্ন করা হয়েছিল সামনাসামনি, অফলাইন মাধ্যমে। বাকি প্রশ্নগুলি অনলাইনে আপলোড করা হয়েছিল। হীরানন্দানি নিজেই হলফনামা দিয়ে জানিয়েছিলেন, মহুয়ার সংসদের লগ ইন আইডি জেনে তাতে প্রশ্ন পোস্ট করতেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন