IPAC

আই-প্যাকের ২০ দিনের ‘ছুটি’ শেষ হল না! সোমবারও তালাবন্ধ সল্টলেকের দফতর, উদ্বিগ্ন কর্মীরা বার্তা পাননি কর্তৃপক্ষের তরফে

ভোটের অব্যবহিত আগেই তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থার ছুটি ঘোষণার খবরে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। গত ১৯ এপ্রিল সকাল সওয়া ১০টা নাগাদ আনন্দবাজার ডট কমে ওই খবর প্রকাশিত হয়েছিল। কর্মীদের পাঠানো ইমেলের স্ক্রিনশটও ব্যবহার করা হয়েছিল প্রতিবেদনের সঙ্গে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১১ মে ২০২৬ ১৯:১২
IPAC\\\'s Salt Lake office did not open on Monday even after the end of the holiday period

বন্ধ আই-প্যাকের দফতর। সোমবার কলকাতায়। —ফাইল চিত্র।

ছুটি শেষ হল না তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের।

Advertisement

১৮ এপ্রিল রাত তখন সওয়া ১২টা। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৯ এপ্রিল। সেই সময়েই কর্মীদের ইমেল পাঠিয়ে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক জানিয়ে দিয়েছিল, আইনি কারণে তারা পশ্চিমবঙ্গে সংস্থার সমস্ত ধরনের কাজকর্ম বন্ধ রাখছে। সেই ইমেলেই উল্লেখ করা ছিল, ১০ মে পর্যন্ত কর্মীরা ছুটি কাটান। ১১ মে জড়ো হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে ‌আলোচনা করা হবে। কিন্তু সোমবার বিকেলে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে সংস্থার দফতরে গিয়ে দেখা গেল, অন্ধকারেই ডুবে রয়েছে প্রকাণ্ড ফ্লোরটি। কাচের দরজার স্টিলের হাতলে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা তালা।

অর্থাৎ, ছুটি শেষ হল না। সোমবার বিকেল পর্যন্ত কর্মীরা কোনও আনুষ্ঠানিক ইমেল পাননি বলেই খবর। সংস্থার একাধিক বিভাগের কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তবে অনেকেরই আশা, এক দিন হয়তো ডেকে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তবে সেটা কবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সোমবারও আই-প্যাকের দফতরে ছিলেন কয়েক জন ফেসিলিটিস বিভাগের কর্মী। কেউ নিরাপত্তাকর্মী তো কেউ সাফাইয়ের কাজ করেন। তাঁদের এক জনের কথায়, ‘‘গত শনিবার অর্জুন স্যর (দত্ত) এসেছিলেন। কিছু জিনিস ছিল। সেগুলি নিয়ে গিয়েছেন।’’ অফিস খোলার ব্যাপারে তিনি কি কিছু বলেছেন? জবাবে ওই কর্মী বলেন, ‘‘তেমন কিছু বলেননি। তবে বলেছিলেন, ১২ তারিখ (মঙ্গলবার) খুললেও খুলতে পারে।’’

ইতিমধ্যে বেশ কিছু কর্মী এসে নিজেদের ডেস্ক থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য সামগ্রীও আই-প্যাকের দফতর থেকে নিয়ে গিয়েছেন। ভোটের অব্যবহিত আগেই তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থার ছুটি ঘোষণার খবরে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। গত ১৯ এপ্রিল সকাল সওয়া ১০টা নাগাদ আনন্দবাজার ডট কমে ওই খবর প্রকাশিত হয়েছিল। কর্মীদের পাঠানো ইমেলের স্ক্রিনশটও ব্যবহার করা হয়েছিল প্রতিবেদনের সঙ্গে। কিন্তু ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে‌ই তৃণমূলের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, আইপ্যাকের কাজ বন্ধের খবর ‘ভিত্তিহীন’। তৃণমূলের ওই বিবৃতির এক ঘণ্টার মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তারকেশ্বর থেকে দাবি করেছিলেন, কারও চাকরি তিনি যেতে দেবেন না। সবাইকে দলে সম্পৃক্ত করে নেওয়া হবে।

তৃণমূল ক্ষমতা থেকে সরার পরে একাধিক মুখপাত্র মুখ খোলা শুরু করেছেন পরামর্শদাতা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে। তাঁদেরই কেউ কেউ প্রকাশ্যে বলেছেন, ‘‘আই-প্যাক দোকান বন্ধ করে দিয়েছিল। তার পরেও দলের নির্দেশে আমাদের মিথ্যা বলতে হয়েছিল।’’ যদিও এ-ও ঠিক, আই-প্যাকের বেশ কিছু পুরনো কর্মী ভোটপর্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে কাজ করেছিলেন। তৃণমূল সরকার থেকে সরতেই পশ্চিমবঙ্গে ওই সংস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। দেখা গেল ২০ দিনের ছুটির পর্ব পার করেও তালাবন্ধ রইল দফতর। আপাতত বকেয়া পাওনা এবং কাগজপত্রের জন্য অপেক্ষায় কয়েকশো কর্মী।

Advertisement
আরও পড়ুন