(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
পশ্চিমবঙ্গে সমস্ত কাজ বন্ধ করে দিল তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আই-প্যাক। নির্দিষ্ট কিছু আইনি ‘বাধ্যবাধকতা’র কথা উল্লেখ করে সংস্থার কর্মচারীদের ইমেলে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটকুশলী সংস্থার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আইনি ‘বাধ্যবাধকতা’র কারণে পশ্চিমবঙ্গে কাজ আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মচারীদের ২০ দিনের সাময়িক ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে। ১১ মে-র পর আবার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ আলোচনা করা হবে।
ইমেলে আই-প্যাক কর্মীদের বলা হয়েছে, ‘‘আইনকে আমরা শ্রদ্ধা করি এবং গোটা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছি। নির্দিষ্ট সময়ে বিচার মিলবে, আমরা নিশ্চিত।’’ এ প্রসঙ্গে যে কোনও প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন আইপ্যাক কর্মীরা। তাঁদের ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে। আই-প্যাকের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে শাসকদল তৃণমূলকে বিপাকে ফেলল বলেই মনে করা হচ্ছে। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ২৯৪টি আসনে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে। আই-প্যাক যে ২০ দিনের বিরতির কথা বলেছে, তা শেষ হতে হতে রাজ্যে ভোটপর্ব মিটে যাবে। নতুন সরকারও গঠন হয়ে যাবে।
সূত্রের খবর, শনিবার মধ্যরাতে আই-প্যাক কর্মীদের কাছে এই ইমেল এসেছে। তবে এ বিষয়ে সংস্থা বা তৃণমূলের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, আই-প্যাকের একটি অংশ এ রাজ্যে কাজ জারি রাখবে। তা বাড়ি থেকে হোক বা অন্য কোনও ভাবে। তবে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে মাঠে-ময়দানে আই-প্যাকের যে কর্মীরা রয়েছেন, তাঁরা কী ভাবে কাজ করবেন, স্পষ্ট নয়। আরও একটি সূত্রের খবর, সল্টলেক সেক্টর ফাইভের যে বহুতলে আই-প্যাকের দফতর, সেখানে শনিবার বিভিন্ন বিধানসভায় কর্মরত কর্মীদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ। আই-প্যাকের দফতরে বেশ ভিড় হয়েছিল। সেই সময়েই অনেকে মনে করেছিলেন, কিছু একটা হতে চলেছে। কারও কারও ধারণা ছিল, ভোটের আগে শেষ মুহূর্তে নির্দেশ দেওয়ার জন্য কর্মীদের দফতরে ডাকা হয়েছে। কিন্তু তার পরেই মধ্যরাতে এই ইমেল আসে, যা অনেককেই স্তম্ভিত করে দিয়েছে। পরবর্তী ধাপে তৃণমূল কী ভাবে কাজ এগোবে, পরামর্শদাতা সংস্থাই বা হাত গুটিয়ে ২০ দিন বসে থাকবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এর আগে আই-প্যাকের কলকাতার দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। তল্লাশি চলাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছে যান। অভিযোগ, বেশ কিছু নথি তিনি তল্লাশির মাঝপথে তুলে নিয়ে বেরিয়ে যান। মমতার অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি। প্রতীকের বাড়ি এবং আই-প্যাকের দফতর থেকে তাঁর দলের নির্বাচন সংক্রান্ত পরিকল্পনা, গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপন নথি ‘চুরি’ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। এই মামলার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। আপাতত মামলাটি শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন। তার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে কাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল আই-প্যাক।
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তের সূত্রে গত সোমবার নয়াদিল্লিতে আই-প্যাকের অন্যতম পরিচালক ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করে ইডি। তিনি এখন কেন্দ্রীয় সংস্থার হেফাজতেই রয়েছেন। তাঁর গ্রেফতারির নিন্দায় সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘‘এটা গণতন্ত্র নয়, ভীতি প্রদর্শন।’’ এ বার সেই আই-প্যাকই রাজ্যে কাজ বন্ধ করে দিল।
নির্বাচনী প্রচারে রবিবার মমতার প্রথম সভা রয়েছে তারকেশ্বরে। অভিষেক প্রথম জনসভা করবেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরে। তার পর দুই সর্বোচ্চ নেতৃত্বের আরও কর্মসূচি রয়েছে। অভিষেক যাবেন নন্দীগ্রামেও। আই-প্যাকের কাজকর্ম বন্ধ হওয়া নিয়ে মমতা-অভিষেক প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে কোনও মন্তব্য করেন কি না, সে দিকেও নজর থাকবে।