Calcutta High Court Chief Justice

৩২,০০০ চাকরি ফেরান, বাতিল করেন মমতার ওবিসি তালিকা! রাজ্যের নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী

কলকাতা হাই কোর্টের বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কার্যকালের মেয়াদ শনিবার শেষ হচ্ছে। তিনি অবসর নেওয়ার পর বিচারপতি চক্রবর্তী দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ১৭:৪৯
কলকাতা হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী।

কলকাতা হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কলকাতা হাই কোর্টের নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হচ্ছেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। শনিবার থেকেই হাই কোর্টে দায়িত্ব নেবেন তিনি। ৩২ হাজার চাকরি বাতিল মামলা থেকে শুরু করে ওবিসি শংসাপত্র বাতিলের মামলা— একাধিক উল্লেখযোগ্য রায়ে স্মরণীয় হয়ে আছেন বিচারপতি চক্রবর্তী। কলকাতা হাই কোর্টের বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কার্যকালের মেয়াদ শনিবার শেষ হচ্ছে। তিনি অবসর নেওয়ার পর বিচারপতি চক্রবর্তী দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তাঁকে নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ করেছের রাষ্ট্রপতি।

Advertisement

বিচারপতি চক্রবর্তীর নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্রের আইন মন্ত্রক। তাতে বলা হয়েছে, ‘‘ভারতীয় সংবিধানের ২২৩ নম্বর ধারায় প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীকে কলকাতা হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ করলেন রাষ্ট্রপতি। ২০ জুন বিচারপতি সুজয় পালের অবসরগ্রহণের পর তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।’’ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি অবসর নিলে সাধারণত বয়ঃজ্যেষ্ঠ বিচারপতিকেই প্রধানের পদে নিয়োগ করা হয়। এ ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মেনেই বিচারপতি চক্রবর্তী দায়িত্ব পাচ্ছেন।

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে ৩২ হাজার চাকরি বাতিল করে দিয়েছিল হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। বিচারপতি চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয়। বিচারপতি জানান, কারও চাকরি যাবে না। মানবিক কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে অবশ্য সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। চলতি বছরের অগস্ট মাসে তার শুনানি হতে পারে। এ ছাড়াও ওবিসি মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি চক্রবর্তী। ২০১০ সালের পর থেকে দেওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করে দিয়েছিলেন তিনি। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ছিল, ২০১০ সালের পর থেকে তৃণমূল সরকারের আমলে অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া ১১৩টি সম্প্রদায়কে ওবিসি শংসাপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া সঠিক ছিল না। তাই ওই শংসাপত্র কোথাও ব্যবহার করা যাবে না। সামাজিক, আর্থিক, পেশাগত ভাবে সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমীক্ষা করে নতুন করে তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেন বিচারপতি। এই মামলাও সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে।

গত বছর সুনালি বিবি-সহ ছ’জনকে বাংলাদেশি সন্দেহে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাঁদের বাংলাদেশে পাঠিয়েও দেওয়া হয়েছিল। সেই সুনালিদের চার সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্টের এই বিচারপতি চক্রবর্তীর বেঞ্চই। আদালতের নির্দেশ অনুসারে অন্তঃসত্ত্বা সুনালিকে ফেরানো হয়।

১৯৬৬ সালে জন্ম বিচারপতি চক্রবর্তীর। ১৯৯১ সালে আইনজীবী হিসাবে তাঁর নাম নথিভুক্ত হয়। ২২ বছর কলকাতা হাই কোর্টে আইনজীবী হিসাবে প্র্যাকটিস করেছেন বিচারপতি চক্রবর্তী। ২০১৩ সালে বিচারপতি হন। হাই কোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসাবে তাঁকে নিয়োগ করা হয় ২০১৬ সালে। এ বার প্রধান বিচারপতির চেয়ারে বসতে চলেছেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন