RG Kar Rape and Murder Case

আরজি কর-কাণ্ডে সিবিআই দফতরে বিনীত, ইন্দিরা, অভিষেক! বয়ান রেকর্ড হল তিন নিলম্বিত পুলিশ আধিকারিকেরই

২০২৪ সালের অগস্ট মাসে আরজি করে যখন চিকিৎসক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল, তখন ইন্দিরা ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল)। অভিষেক ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ)।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ১৮:৫৭
(বাঁ দিক থেকে) অভিষেক গুপ্ত , বিনীত গোয়েল এবং ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়।

(বাঁ দিক থেকে) অভিষেক গুপ্ত , বিনীত গোয়েল এবং ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

আরজি কর-কাণ্ডে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে তলব করে সিবিআই। তাঁর সঙ্গেই তলব করা হয় আইপিএস ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, অভিষেক গুপ্তকে। শুক্রবার সিবিআইয়ের দফতরে হাজিরা দেন তিন জনই। সিবিআই সূত্রে খবর, তিন জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, তিন জনকেই সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করা হয়েছিল।

Advertisement

২০২৪ সালের অগস্ট মাসে আরজি করে যখন চিকিৎসক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল, তখন ইন্দিরা ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল)। অভিষেক ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ)। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে ওই তিন জনকে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করে। আরজি কর-কাণ্ডের সময় তাঁদের তিন জনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

কখনও নির্যাতিতার নাম প্রকাশ্যে বলা, কখনও ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য’ সরবরাহ, কখনও বা হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে ওঠা ‘অসাধু চক্র’কে আড়ালের অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছে লালবাজার। উঠেছিল বিনীত, ইন্দিরাদের অপসারণের দাবিও। কিন্তু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সে সময় আন্দোলনকারী চিকিৎসক এবং নাগরিকদের দাবিতে আমল দেয়নি। পরে যদিও বিনীতকে কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদ থেকে অপসারণ করা হয়। তবে তাতে বিতর্ক থামেনি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পরে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল ঘটনার সময় টালা থানার ওসি পদে থাকা পুলিশ আধিকারিক অভিজিৎ মণ্ডলকে।

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার হলে মহিলা চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পর সেখানে বহিরাগত-সহ অনেক মানুষ প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনার সপ্তাহ দুয়েক পরে প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিয়ো (যার সত্যতা আনন্দবাজার অনলাইন যাচাই করেনি) ঘিরে সেই সব প্রশ্ন উঠছিল। দানা বাঁধছিল বিতর্কও। তার প্রেক্ষিতে প্রথমে সাংবাদিক বৈঠক করে কলকাতা পুলিশের তৎকালীন ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা জানিয়েছিলেন ভিডিয়োটি সেমিনার হলেরই। কিন্তু ঠিক যেখান থেকে দেহটি উদ্ধার হয়েছিল, সেই জায়গা ‘সুরক্ষিত’ই ছিল। পুলিশ ঘিরে রেখেছিল জায়গাটি। তার বাইরে ঘরের অন্য একটি অংশের ভিডিয়ো করা হয়েছে। ইন্দিরার বিরুদ্ধে তথ্য আড়াল করার অভিযোগ উঠেছিল।

অপরাধের পরে সেমিনার হলের ‘চরিত্র বদল’, রাতদখলের রাতে সেমিনার হল ভাঙচুর-সহ যে তদন্তে গাফিলতি সংক্রান্ত যে অভিযোগগুলি উঠেছিল, তাতে জড়িয়ে গিয়েছিল তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেকের নাম। সেই সঙ্গে নির্যাতিতার মা পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তোলার পরে, সমাজমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছিল তাঁর নামে। ঘটনাচক্রে, নির্যাতিতার দেহ নিয়ে তাঁর বাড়িতে যে পুলিশকর্মীরা গিয়েছিলেন, সেই দলেও ছিলেন অভিষেক।

Advertisement
আরও পড়ুন