নানা ধরনের ফুল দিয়ে সাজানো হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভামঞ্চ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
শনিবার পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হতে চলেছে হুগলির তারকেশ্বরে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে তারকেশ্বর বৈদ্যবাটী ১২ নম্বর রোডের পাশে বালিগড়ি মাঠে। মঞ্চ সজ্জার জন্য সুদূর তাইল্যান্ড থেকে বিশেষ ধরনের ফুল নিয়ে আসা হয়েছে তারকেশ্বরে। ফুল এসেছে তামিলনাড়ু থেকেও।
নানা ধরনের ফুলের সমারোহ তারকেশ্বরে। —নিজস্ব চিত্র।
গত কয়েক দিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মঞ্চসজ্জার কাজ চলছে। তাইল্যান্ড থেকে আনা হয়েছে অ্যান্থোরিয়াম। তামিলনাড়ুর উটি থেকে আনা হয়েছে জারবেরা এবং লিলি। এ ছাড়া, পাঁচ রকমের গোলাপ, ব্লু ডেইজ়ি, রজনীগন্ধা, গাঁদার মতো ফুল রয়েছে। তমলুক থেকে কারিগরেরা এসেছে মঞ্চ সাজাচ্ছেন। বালিগড়ি মাঠের পাশেই রয়েছে হেলিপ্যাড। শনিবার সেখানে নামবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা থাকবেন। স্থানীয় বিধায়কদেরও দেখা যাবে। শুক্রবার প্রস্তুতি পরিদর্শন করে গিয়েছেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরীমন্ত্রী অজয়কুমার পোদ্দার, বিধায়ক সন্তু পান, দীপাঞ্জন গুহেরা। প্রধানমন্ত্রীর সফরে নিরাপত্তাও আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চলছে চেকিং।
মোদীর সভাস্থলের দু’পাশে দু’টি করে মোট পাঁচটি হ্যাঙারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এটাই পশ্চিমবঙ্গ দিবসের প্রথম সরকারি উদ্যাপন। তাতে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছেন না কর্মকর্তারা। সভাস্থল সাজিয়ে তোলা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যের ছোঁয়ায়। কলকাতার হলুদ ট্যাক্সি থেকে শুরু করে হাতে টানা রিক্সা, দক্ষিণেশ্বরের মন্দির, বেলুড় মঠের ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে গোটা চত্বর।
মঞ্চসজ্জার কাজে ব্যস্ত কারিগরেরা। —নিজস্ব চিত্র।
তমলুক থেকে মোট ২৬ জন কারিগর তারকেশ্বরের মঞ্চ সাজানোর কাজ করছেন। তাঁদেরই একজন একাদশী সামন্ত বলেন, ‘‘রাজ্যে পরিবর্তনের পর এই প্রথম প্রধানমন্ত্রীর বড় অনুষ্ঠান। আমরা ফুলের কাজ করছি। খুব ভাল লাগছে।’’ যতন মালিকের কথায়, ‘‘অনেক রকমের ফুল দিয়ে মঞ্চ সাজানো হচ্ছে। এ বার নতুন সরকার, তাই বিশেষ ব্যবস্থা।’’
তাইল্যান্ড, উটি থেকে ফুল আনা হয়েছে তারকেশ্বরে। —নিজস্ব চিত্র।
শুক্রবার সকালের বৃষ্টিতে তারকেশ্বরের মঞ্চসজ্জায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছিল। দিকে দিকে জল জমে গিয়েছে। তবে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলার কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী পৌঁছোনোর আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে তোলা যাবে, আশাবাদী প্রশাসন।
দু’দিন পশ্চিমবঙ্গে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের তাৎপর্য উল্লেখ করে সমাজমাধ্যমে পোস্টও করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি রক্ষায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রচেষ্টা তারকেশ্বর জায়গাটিকে ঐতিহ্যমণ্ডিত করে তুলেছে। তাই পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের জন্য এই স্থানটিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। এখান থেকে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা করবেন মোদী। প্রধানমন্ত্রী কিসান প্রকল্পের ২৩ তম কিস্তি প্রদান করা হবে ওই অনুষ্ঠান থেকেই। এ ছা়ড়া, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, ধনধান্য কৃষি যোজনা, ডিজিটাল কৃষি মিশনের অংশ হিসাবে এগ্রি ট্যাক প্রভৃতি কৃষি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিরও সূচনা করা হবে।
২১ তারিখ, রবিবার কলকাতায় যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তার পর দেশি নকশায় নির্মিত যুদ্ধজাহাজ আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস সংশোধক এবং আইএনএস অগ্রয়ের উদ্বোধনেও থাকবেন তিনি।