—প্রতীকী চিত্র।
একটি বেসরকারি হাসপাতালে রবিবার পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছিল ১৭ বছরের নাবালিকা। তার বয়স জানতে পেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শেক্সপিয়র সরণি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে এই পকসো মামলায় রবিবার অভিযুক্ত পানশালার এক মালিককে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের নাম রীতেশকুমার জাগু। সে ওই অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। নির্যাতিতা কিশোরীর সঙ্গে রীতেশ গত তিন-চার মাস ধরে একত্রবাস করছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় রীতেশ ছাড়াও আর এক অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি নির্যাতিতাকে জামশেদপুরে নিয়ে গিয়ে যৌন হেনস্থা করেছিল।
সোমবার রীতেশকে কলকাতা নগর দায়রা আদালতের বিশেষ পকসো কোর্টে হাজির করা হয়। বিচার ভবনের মুখ্য সরকারি আইনজীবী দীপঙ্কর কুণ্ডু এবং মামলার সরকারি কৌঁসুলি সৈকত পাণ্ডে জানান, বিশেষ পকসো আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক কৌস্তুভ মুখোপাধ্যায় রীতেশকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজত দিয়েছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন হেনস্থা, অপহরণ-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
আদালত সূত্রের খবর, পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, ৪৩ বছরের রীতেশের পার্ক স্ট্রিটে পানশালা রয়েছে। নির্যাতিতা সেই পানশালার নর্তকী। রীতেশ দক্ষিণ কলকাতায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে গত তিন-চার মাস ধরে ওই কিশোরীর সঙ্গে একত্রবাস করছিল। কড়েয়া এবং দিল্লিতেও তার বাড়ি রয়েছে। দিল্লিতে তার পরিবার থাকে।
রীতেশের পানশালায় কাজ করার আগে ওই নাবালিকা অন্য পানশালায় কাজ করত। সেখানে যাতায়াত ছিল জামশেদপুরের বাসিন্দা আর এক অভিযুক্তের। বছরখানেক আগে সেই ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ হয় কিশোরীর। অভিযোগ, সেই ব্যক্তি তাকে জামশেদপুরে নিয়ে যায়। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে। কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে তাড়িয়ে দেয়। তার খোঁজে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে।
কলকাতায় ফিরে নির্যাতিতা রীতেশের পানশালায় কাজ নেয়। রাকেশ অন্তঃসত্ত্বা ওই নির্যাতিতাকে রবিবার শেক্সপিয়র সরণি এলাকার হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ পেয়ে সেখান থেকে রীতেশকে আটক করে পুলিশ। জেরার পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।