ERO

কমিশনের নির্দেশ আসেনি, নিলম্বিত যুগ্ম বিডিও অফিসে

রবিবার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে নিলম্বিত হয়েছেন রাজ্যের সাত অ্যাসিস্ট্যন্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)। সেই তালিকাতেই নাম রয়েছে যুগ্ম বিডিও ডেবরা দেবাশিস বিশ্বাসের।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩২
ডেবরা বিডিও অফিস।

ডেবরা বিডিও অফিস। — ফাইল চিত্র।

এসআইআরের শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। চলছে নথি যাচাই। সঙ্গে চলছে ভোটারের নাম সংযোজন ও বিয়োজনের কাজ। এই পরিস্থিতিতে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় অপব্যবহার করে অসদাচারণের অভিযোগে ডেবরার যুগ্ম বিডিওকে নিলম্বিত করেছে নির্বাচন কমিশন। যদিও এখনও সেই নির্দেশ হাতে আসেনি বলে দাবি ব্লক প্রশাসনের।

রবিবার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে নিলম্বিত হয়েছেন রাজ্যের সাত অ্যাসিস্ট্যন্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)। সেই তালিকাতেই নাম রয়েছে যুগ্ম বিডিও ডেবরা দেবাশিস বিশ্বাসের। ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস ‘সি’ গ্রুপের এই আমলা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ডেবরা বিধানসভার কয়েকটি পার্টের এইআরও হিসাবে কাজ করছিলেন। দিন কয়েক আগেই এই ব্লকে এসআইআরের শুনানি শেষ হয়েছে। তার পরেই এমন নির্দেশে শোরগোল পড়েছে।

রাজ্যের মুখ্যসচিবের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনের সচিব সুজিতকুমার মিশ্র যে চিঠি দিয়েছেন, তাতে জানানো হয়েছে— ক্ষমতার অপব্যহার করে গুরুতর অসৎ আচরণ ও কর্তব্যে অবহেলা করেছেন ডেবরার যুগ্ম বিডিও দেবাশিস বিশ্বাস। তাই বিলম্ব না করে দ্রুত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাঁকে নিলম্বিত করতে বলা হয়েছে। এ নিয়ে অবশ্য কিছু বলতে চাননি দেবাশিস বিশ্বাস। ফোন ধরে “ব্যস্ত আছি” বলে প্রসঙ্গ এড়িয়েছেন তিনি। আর বিডিও ডেবরা প্রিয়ব্রত রাঢ়ীর দাবি, “এই সংক্রান্ত কোনও নির্দেশিকা আমি হাতে পাইনি।”

এ দিন অফিসেও এসেছিলেন দেবাশিস। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও নির্দেশিকা না আসার জন্য তিনি অফিসে এসেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্য সরকার এই ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের নিয়োগ করেছে। তাই নিলম্বিত করার জন্য রাজ্যের নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত তা কার্যকর হবে না। সেই কারণেই রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের কথা বলেছেন কমিশনের সচিব। এই আধিকারিকের বিরুদ্ধে ভুয়ো নথি আপলোডের মতো অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কমিশনের নির্দেশের ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও ডেবরার যুগ্ম বিডিও-কে নিলম্বিত না করায় সরব হয়েছে বিজেপি। দলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তন্ময় দাস বলেন, “এখন তো পড়াশোনা শিখে সিভিল সার্ভিসের মতো পরীক্ষায় পাশ করা এই আধিকারিকেরা তৃণমূলের পাল্লায় পড়ে নিজেদের চাকরি খোয়াতে বসেছেন। এসআইআরের কাজে অনিয়ম করেছেন বলেই কমিশন যুগ্ম বিডিও দেবাশিস বিশ্বাসকে নিলম্বিত করেছে। অথচ তৃণমূলের দলদাস এই রাজ্য সরকারের আমলা কমিশনের নির্দেশকে তোয়াক্কা করেন না। আমরা দু’দিন দেখে বিডিও-র সঙ্গে দেখা করে কেন কমিশনের নির্দেশ মানা হচ্ছে না তা জানতে চাইব।”

তৃণমূলের ঘাটাল জেলা সভাপতি অজিত মাইতি পাল্টা বলেন, ‘‘আমাদের দল গোড়া থেকেই জানিয়ে আসছে, কমিশন আসলে বিজেপির দলদাস হয়ে কাজ করছে। বিজেপি এই বাংলাকে গ্রাস করতে রাজনৈতিক ভাবে তৃণমূলের সঙ্গে লড়াইয়ে পারছে না বলে কমিশনকে দিয়ে রাজ্যের অফিসারদের উপরে শাস্তির বোঝা ঝুলিয়ে দিচ্ছে। এই ঘটনা তার অন্যতম প্রমাণ।’’

আরও পড়ুন