সুপ্রতিম সরকার। —নিজস্ব ছবি।
দিনের ব্যস্ত সময়ে এলাকায় এলাকায় যাতে পুলিশের টহল নজরে পড়ে, তার জন্য থানাগুলিকে নির্দেশ দিলেন কলকাতার নগরপাল সুপ্রতিম সরকার। সোমবার মাসিক অপরাধ দমন বৈঠকে পুলিশ আধিকারিক এবং থানার আধিকারিকদের এই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, এ দিনের বৈঠকে নগরপাল জানিয়েছেন, সব থানার ব্যস্ত সময় এক নয়। তাই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা নিজের এলাকার ব্যস্ত সময় বেছে টহল দেবেন। প্রসঙ্গত, এর আগে রাস্তায় যাতে সব সময়ে ট্র্যাফিক পুলিশের আধিকারিকদের দেখা যায়, তার জন্য বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সূত্রের দাবি, ওই নির্দেশ মেনে গত এক সপ্তাহে রাস্তায় ট্র্যাফিকের কর্তাদের যেমন দেখা যাচ্ছে, তেমনই যান চলাচলের গতিও বেড়েছে।
লালবাজার সূত্রের খবর, এ দিনের বৈঠকে নগরপাল থানার আধিকারিকদের বলেছেন, অভিযোগকারীদের বক্তব্য ঠিক ভাবে শুনতে হবে। প্রয়োজনে অভিযোগকারীর সঙ্গে কথা বলতে হবে থানার ওসি-কে। নগরপালের মতে, এর ফলে সেই অভিযোগে থানা যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে অভিযোগকারী মনে করবেন। এক পুলিশকর্তা জানান, কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সেটি কোন থানা এলাকার মধ্যে পড়ে, তা না দেখে আগে অভিযোগ জমা নেওয়ার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগেও এই বিষয়ে থানাগুলিকে সতর্ক করেছিলেন নগরপাল। উল্লেখ্য, মাঝেমধ্যেই কোন থানা এলাকায় ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে দুই থানার দ্বন্দ্ব সামনে আসে বলে অভিযোগ।
থানায় কেউ অভিযোগ জানাতে এলে পুলিশকর্মীরা তাঁর সঙ্গে কেমন ব্যবহার করছেন, তা দেখতে শনিবার রাতে ছদ্মবেশে খোদ নগরপাল শহরের দু’টি থানায় হাজির হয়েছিলেন। বালিগঞ্জ থানার পুলিশকর্মীরা নগরপালকে চিনতে পারলেও সার্ভে পার্ক থানার পুলিশকর্মীরা তাঁকে চিনতে পারেননি। থানা পরিদর্শনের পরে নগরপাল অবশ্য জানিয়েছিলেন, দুই থানার পুলিশকর্মীদের ব্যবহারে তিনি সন্তুষ্ট।
এ ছাড়াও, এ দিনের বৈঠকে আইনশৃঙ্খলাজনিত ডিউটি থাকলে যাতে বাহিনীর সদস্যেরা ঠিক সময়ে উপস্থিত থাকেন, তা দেখতে বিশেষ ভাবে নির্দেশ দিয়েছেন নগরপাল। কোনও ভাবেই পুলিশকর্মীরা যাতে এই সংক্রান্ত ডিউটিতে অনুপস্থিত না থাকেন, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, এর পরের মাসিক অপরাধ দমন বৈঠকে কলকাতা পুলিশের সশস্ত্র বাহিনীর উপ-নগরপালেরা এবং ট্র্যাফিক পুলিশের আধিকারিকেরা উপস্থিত থাকবেন।