কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ। —ফাইল চিত্র।
দামি বিদেশি যন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণের নামে তাতে লাগানো হচ্ছে সস্তার যন্ত্রাংশ। অথচ বিল হচ্ছে দামি যন্ত্রাংশের। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে এমনই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রের খবর, কলকাতা মেডিক্যালে রোগী পরিষেবায় ব্যবহৃত বিভিন্ন দামি ও বিদেশি যন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে একটি বেসরকারি সংস্থা। কিছু দিন ধরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে মৌখিক ভাবে চিকিৎসকেরা অভিযোগ করছিলেন, নতুন যন্ত্র বার বার খারাপ হচ্ছে। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি রক্ষণাবেক্ষণ ঠিক ভাবে হচ্ছে না? দিনকয়েক আগে পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগে পিকু-তে বার বার ভেন্টিলেটর খারাপ হওয়ার বিষয়টি জানান বিভাগীয় প্রধান। এর পরেই তদন্ত কমিটি গঠন করেন কলকাতা মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ।
কমিটিতে থাকা বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারেরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। সূত্রের খবর, তদন্তে দেখা যায়, যন্ত্রগুলির ভিতরের দামি যন্ত্রাংশ বদলে যে যন্ত্রাংশ লাগানো হচ্ছে, তা দেখতে হুবহু এক। কিন্তু আসল নয়। বরং বিদেশি, দামি যন্ত্রটির ভিতরে লাগানো হচ্ছে সস্তার, নিম্ন মানের যন্ত্রাংশ। ফলে বার বার যন্ত্রটি খারাপ হচ্ছে। ওই বেসরকারি সংস্থা শহরের অন্যান্য সরকারি হাসপাতালেও যন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণের বরাত পেয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কী ভাবে যন্ত্রাংশ বদলের সাহস পাচ্ছেন ওই সংস্থার কর্মীরা?
অন্য দিকে, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পরে নড়েচড়ে বসেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। কলকাতা মেডিক্যালের উপাধ্যক্ষ অঞ্জন অধিকারী বলেন, ‘‘পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। নির্দেশ মতো পদক্ষেপ করা হবে।’’