গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বৃদ্ধকে সিবিআই কর্তা পরিচয়ে ডিজিটাল গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে ১৬ লক্ষ টাকা প্রতারণা করার অভিযোগ উঠল। আনন্দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন বৃদ্ধ। অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ডিভিশন এবং থানার সাইবার শাখা।
জানা গিয়েছে, বছর বাহাত্তরের অভিযোগকারী বৃদ্ধ আনন্দপুর থানার ভিআইপি নগরের বাসিন্দা। স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন তিনি। বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন। পুলিশকে লিখিত অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, গত ২৩ জানুয়ারি মোবাইলে একটি ফোন আসে। নিজেদের মুম্বই সিবিআইয়ের কর্তা পরিচয় দেয় ওপারে থাকা ব্যক্তিরা। বৃদ্ধের নথি ব্যবহার করে বেআইনি লেনদেন করা হচ্ছে, এমনটাই অভিযোগ করা হয়। বেশ কিছু প্রমাণও রয়েছে বলে জানায় অভিযুক্তেরা। তাঁকে ডিজিটাল গ্রেফতার করে ব্যাঙ্কের টাকা এবং লেনদেন খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়। তাদের কথায় রাজি না হলে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে কলকাতায় এসে গ্রেফতার করা হবে বলে ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ।
বৃদ্ধের দাবি, সিবিআই কর্তা পরিচয় দেওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই তিনি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। অভিযুক্তেরা কাউকে কিছু না জানানোর কথা বলায় তিনি সেটাই করেন। বৃদ্ধ পুলিশকে জানিয়েছেন, এর পর তাঁকে টাকার জন্য চাপ দেওয়া হতে থাকে। সঙ্গে চলে ভয় দেখানো। ২৮ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বেশ কয়েক দফায় প্রায় ১৬ লক্ষের বেশি টাকা আতঙ্কিত বৃদ্ধ অভিযুক্তদের কাছে পাঠান। এর পরেই যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় অভিযুক্তেরা। দিন দুই পরে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি। বৃদ্ধ পুলিশকে জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে তাঁর। হৃদ্যন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন। সর্বস্ব খুইয়ে এখন পথে বসার অবস্থা তাঁর।
সপ্তাহ কয়েক আগেই বাগুইআটির বাসিন্দা এক বৃদ্ধ একই ফাঁদে পড়ে ৯৫ লক্ষ টাকা প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন। পাটুলির বাসিন্দা এক বৃদ্ধ দম্পতির কয়েক কোটি টাকা একই ভাবে খোয়া যায়।
কোন কোন অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছিল, তা দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।