গত শতকের মধ্যভাগে ভারত যখন স্বাধীন হচ্ছে, সেই সময়ের বাঙালি চিত্রশিল্পীদের শিল্পচর্চার আয়নায় ধরা পড়ে ব্যক্তিগত ও সমকালীন দুই ছবিই। জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা সংগ্রাম তাঁদের শিল্পভাবনায় ছাপ ফেলেছিল, পরে পরে নতুন ভাব ভাষা প্রবণতাও যুক্ত হয় তাতে। এই অ-স্থির অথচ প্রাণবন্ত আবহেই গোপেশ চক্রবর্তীর শিল্পচর্চার সূচনা। গত শতকের ত্রিশ ও চল্লিশের দশকে চর্চিত শিল্পরীতির মধ্য দিয়ে চলা শুরু করে, পরবর্তী কালে তাঁর চিত্রভাষা এক অদ্ভুত ও গভীর রূপ ধারণ করে, যেন ভিতরপানের এক অবিরাম যাত্রা— অথচ চার পাশের সময়, সমাজ ও সংস্কৃতি-বিযুক্ত নয় তা বলে।
বঙ্গভঙ্গের বছরে, ১৯০৫-এ জন্ম গোপেশ চক্রবর্তীর (মাঝের ছবি), জয়ন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে সুরমা উপত্যকায়। অল্পবয়সেই বাড়ি ছেড়ে কলকাতা আসেন সরকারি আর্ট স্কুলে ভর্তি হতে। আর্থিক অনটনে এক বছরের মধ্যেই সেই শিক্ষা ছেড়ে দিতে হয়, শুরু হয় অনিশ্চিত ভবঘুরে জীবন। ওয়েলিংটন স্কোয়ার বা কলেজ স্ট্রিটের আশপাশে, খোলা আকাশের নীচে রাত কাটিয়েছেন, এমনও হয়েছে। দেখার চোখ আর আঁকার হাত, এই দুই-ই তাঁর স্বশিক্ষিত বলা চলে। শ্রীরামকৃষ্ণের জীবন ও বাণী গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল তাঁকে, তারই সূত্র ধরে হয়তো সমকালীন শিল্প-আলোচকেরা তাঁর চিত্রভাষায় খুঁজে পেয়েছেন আধ্যাত্মিকতার সুর। তবে পরবর্তী কালে তাঁর শিল্পজীবন যত এগিয়েছে, তাঁর ছবিতে ফুটে উঠেছে জীবন, সময় ও পরিপার্শ্বের কঠোর বাস্তবতা। স্বদেশি আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা— এই সব কিছুরই সাক্ষী তিনি, তার প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত তাঁর শিল্পে। চল্লিশের দশকে কলকাতায় ঘরোয়া উদ্যোগে, এ ছাড়া সিলেট ও শিলংয়ে প্রদর্শনীবদ্ধ হয়েছে এই শিল্পীর কাজ, ১৯৩০-এর দশকের শেষভাগে কলকাতায় অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসেও হয়েছে প্রদর্শনী।
গোপেশ চক্রবর্তীর গোড়ার দিকের কাজে বেঙ্গল স্কুল ঘরানার বিশিষ্ট শিল্পী ক্ষিতীন্দ্রনাথ মজুমদারের সাযুজ্য মেলে। কালক্রমে প্রবেশ করেন গ্রন্থ-অলঙ্করণের জগতে, বিশেষত রুশ ও পূর্ব ইউরোপীয় অনুবাদ-সাহিত্যের বইগুলিতে আঁকতেন। আবার তাঁর পরবর্তী কালের চিত্রকৃতিতে দেখা গেছে আকৃতি ও বিকৃতির নানা রূপ-নিরীক্ষা— এমনকি তা হয়ে উঠেছে প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক ভাষ্যও। পূর্ব পাকিস্তানে স্বৈরাচারী তন্ত্র, ইয়াহিয়া খানের সামরিক শাসন, ১৯৭১-এ বাংলাদেশের জন্ম, এই ঘটনাবহুল উত্তাল ইতিহাসও প্রতিফলিত তাঁর ছবিতে এক শক্তিশালী গ্রাফিক সংবেদনে— অলঙ্করণ, ব্যঙ্গচিত্র ও স্টুডিয়ো-শিল্পচর্চার মধ্যের সীমারেখা সেখানে মিলেমিশে যায়।
১৯৯৩-এ প্রয়াত, বিশ শতকের বিশিষ্ট এই শিল্পীকে আমরা তেমন ভাবে মনে রাখিনি। আশার কথা, বিড়লা অ্যাকাডেমি অব আর্ট অ্যান্ড কালচার-এ আগামী ১৬ থেকে ২৮ জুন ফিরে দেখা যাবে ওঁর কাজ (উপরের ছবি), ‘স্ট্রেঞ্জার ফর্মস: দ্য ফরগটন আর্ট অব জি সি চক্রবর্তী’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে। বিস্মৃত শিল্পী ও তাঁর জীবনকৃতিকে সামনে নিয়ে আসার সার্বিক কৃতিত্ব বেঙ্গালুরুর ‘দ্বিজ গ্যালারি’র, প্রদর্শনী-ক্যাটালগও বার করেছেন ওঁরা। তাঁদের তরফে মিত ব্যাস থাকবেন শুরুর দিনে।
প্রমথনাথ ১২৫
১৯০১ সালে, অবিভক্ত বঙ্গের নাটোরে জন্ম প্রমথনাথ বিশীর (ছবি)। শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মবিদ্যালয়ের প্রথম যুগের ছাত্র তিনি, রবীন্দ্রনাথের অন্তরঙ্গ সান্নিধ্যধন্য; তাঁর সাহিত্যপ্রতিভার জন্যও পেয়েছেন কবির স্নেহ, প্রশংসা। তাঁর উপন্যাস কেরী সাহেবের মুন্সী বাংলা সাহিত্যের অতুল সম্পদ, ১৯৬০-এ রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত। নাটক, ছোটগল্পের অঙ্গনেও রয়েছে প্রমথনাথ-প্রতিভার স্বাক্ষর, দীর্ঘকাল অধ্যাপনা করেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ও অন্যান্য কলেজেও। ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর সঙ্গেও: ১৯৬৮-তে এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে বৃত হন, আমৃত্যু ছিলেন সেই দায়িত্বে। প্রতিষ্ঠানের প্রবীণ সদস্যদের মনে আজও রয়ে গিয়েছে তাঁর সরস বক্তব্যের স্মৃতি। প্রয়াত ১৯৮৫-তে, এ বছর ১১ জুন তাঁর জন্মের ১২৫ বছর পূর্ণ হল। আগামী ১৫ জুন সোমবার সন্ধে ৬টায় কালীঘাট পার্কে রবীন্দ্রচর্চা ভবনে তাঁর স্মরণে আলোচনা ও গান, থাকবেন পবিত্র সরকার মীনাক্ষী সিংহ অভ্র বসু রাজশ্রী ভট্টাচার্য প্রমুখ বিশিষ্টজন।
সম্মাননা
পেশায় চিকিৎসক, নেশা: লেখালিখি। লিখেছেন একাধিক বই, তবে সৌম্য ভট্টাচার্যের সাহিত্যচর্চার আরও একটি দিক, গত পাঁচ বছর ধরে ‘পিকনিক গার্ডেন লীলা সেবা সোসাইটি’র তরফে সাহিত্যিক-সম্মাননা— তাঁর মায়ের নামাঙ্কিত লীলা স্মৃতি পুরস্কার অর্পণ এবং পিতা শচীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্যের নামে স্মারক বক্তৃতা আয়োজনের মাধ্যমে। গত ৬ জুন বিকেলে মহাজাতি সদনের অ্যানেক্স হল-এ, ঋক প্রকাশনীর সহযোগিতায় হয়ে গেল পঞ্চম বর্ষের অনুষ্ঠান, আটটা ন’টার সূর্য উপন্যাসটির জন্য এ বছর সম্মানিত হলেন অশোককুমার মুখোপাধ্যায়। স্মারক বক্তৃতায় এ বছরের বক্তা ছিলেন তিনিই, বললেন ‘তথ্য-উপন্যাস লেখার চ্যালেঞ্জ’ নিয়ে।
ব্রাজিলের ছবি
বিশ্বকাপ-জ্বরে আক্রান্ত শহর, ফুটবল-ভক্তদের ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা রসদ্বন্দ্বও ফিরে এসেছে পূর্ণমাত্রায়। ব্রাজিল-অনুরাগীরা এই আবহে আরও পুলকিত হবেন, কলকাতায় শুরু হচ্ছে ব্রাজিলের চলচ্চিত্র-উৎসবও! সৌজন্যে ফোরাম ফর ফিল্ম স্টাডিজ় অ্যান্ড অ্যালায়েড আর্টস। আগামী ১৯ ও ২০ জুন নন্দন ৩-এ দেখানো হবে ব্রাজিলের পাঁচটি কাহিনিচিত্র ও একটি তথ্যচিত্র: জাস্ট লাইক আওয়ার পেরেন্টস, দ্য ফার্স্ট উইমেন, দ্য সেকেন্ড মাদার, দ্য পোপ’স টয়লেট, অ্যালিস’স হাউস ও নোয়েল: পোয়েট অব দ্য ভিলেজ। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় উদ্বোধন, থাকবেন কলকাতায় কনসুলেট অব ব্রাজিলের অনারারি কনসাল প্রদীপ খেমকা; শমীক বন্দ্যোপাধ্যায় অশোক বিশ্বনাথন প্রমুখ গুণিজন।
যত পুষ্প
দশ বছর বয়সে শুরু অভিনয় জীবন, নিউ থিয়েটার্সে কাজের সূত্রে রুপোলি পর্দার জগতে প্রতিষ্ঠা পান কানন দেবী। মুক্তি, বিদ্যাপতি, সাথী, স্ট্রিট সিঙ্গার, সাপুড়ে, শেষ উত্তর-সহ বহু ছবি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর। বাংলা চলচ্চিত্রে নারী তারকা ও গায়িকা-অভিনেত্রীর মর্যাদা, চিত্রপ্রযোজনায় মহিলাদের অংশগ্রহণের ইতিহাসে, বাংলা সিনেমার স্টুডিয়ো যুগ ও জনপ্রিয় সঙ্গীতের যাত্রায় স্মরণীয় তাঁর অবদান। ‘জীবনস্মৃতি আর্কাইভ’ ও ‘অন্য থিয়েটার’ তাঁর স্মরণে আয়োজন করেছে অনুষ্ঠান ‘কাননে যত পুষ্প ছিল’, ১৪ জুন বিকেল ৫টায় সল্টলেকের অন্য থিয়েটার ভবনে। থাকছে কানন দেবী প্রযোজিত ছবির পুস্তিকা-প্রচ্ছদ-প্রতিলিপিতে সাজানো প্রদর্শনী; ১৯৮৮-তে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নেওয়া তাঁর অডিয়ো-সাক্ষাৎকার। সামগ্রিক ভাবনা ও রূপায়ণে অরিন্দম সাহা সরদার, ‘কানন’-কথায় সুচেতনা ভট্টাচার্য।
নব নাট্য
“ভারী কথা সহজ ভাবে বলার চেষ্টা এ-নাটকে,” বলছিলেন সোহিনী সেনগুপ্ত। ‘নান্দীকার’-এর নবতম প্রযোজনা অবাঞ্ছিত শব্দগুচ্ছ-এর নির্দেশক তিনি। রচনা সপ্তর্ষি মৌলিকের। বরাবর নতুন ধারায় নতুন উদ্যোগে নতুন প্রজন্মকে নিয়ে কাজ করায় বিশ্বাসী নান্দীকার, জুন-শেষে সাতষট্টিতে পা রাখার মুখে সে-বিশ্বাসেই অবিচল। জীবিকা নির্বাহের লড়াইয়ে বিজ্ঞান যতই দুনিয়া জয় করুক, শিল্প-সাহিত্য ছাড়া মানুষ নিজেকে প্রকাশ করতে পারে না। নাটককার প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে, যা প্রায়ই মানবতারহিত মেধাকে কল্পনা ও সৃষ্টির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। শিক্ষার্থীদের দুনিয়া দেখার দৃষ্টিভঙ্গি, নিজেদের ভিতরে ঘুমিয়ে থাকা শিল্পসত্তার আবিষ্কারের কথা বলে এ-নাটক। আগামী ২০ জুন প্রথম অভিনয় অ্যাকাডেমি মঞ্চে, দুপুর আড়াইটে ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।
সীতা ও আঞ্জনেয়
সীতাকে হরণ করে লঙ্কার অশোকবনে বন্দি করে রেখেছেন রাবণ। সেই সময়েই, বহু বাধা ও অতল সমুদ্র পেরিয়ে সেখানে এলেন রামচন্দ্রদূত হনুমান, রামের আংটি দেখিয়ে আশ্বস্ত করলেন জানকীকে। সীতাও তাঁর হাতে সঁপে দিলেন নিজের চূড়ামণি। বিশ্বাস, ভালবাসা আর অবিচল ভক্তির রসে জারিত রামায়ণের এই চিরন্তন আখ্যান এ বার কথাকলি নৃত্যশৈলীর আধারে— আজ সন্ধে সাড়ে ৬টায় কলকাতা সেন্টার ফর ক্রিয়েটিভিটি (কেসিসি)-র অ্যাম্ফিথিয়েটারে পরিবেশিত হবে ‘সীতা আঞ্জনেয় কথা’। প্রলয় সরকার ও রম্যাণি রায়ের উপস্থাপনায় অভিনয়, নৃত্যমুদ্রা আর গল্প-বলার একত্র সম্মিলন ঘটবে। কলকাতায় বসে কথাকলি রসাস্বাদনের সুযোগ ইদানীং খুব যে মেলে তা নয়— এক নৃত্যোৎসবগুলি ছাড়া। চিরাচরিত রাম-কথার বহুল-আদৃত একটি পর্ব দেখা যাবে সেই নৃত্যশৈলীতে, কম প্রাপ্তি নয়। ছবিতে তারই এক টুকরো।
জলমঙ্গলকাব্য
শৈশবে দিদার কণ্ঠে শোনা ভাটিয়ালির সুর ভাসিয়ে নিয়ে যেত। তখন কল্পনায় নিজেই এক মাঝি, আকাশ আর জলের মাঝে বসবাস। বড় হতে কল্পনা পেল মাটির গন্ধ; জল জঙ্গল প্রকৃতির সঙ্গে আলাপ হল। নদীনির্ভর মানুষের জীবন কাছ থেকে দেখেছেন; কাছে টেনেছে ওঁদের বিশ্বাস, গান। গানে লুকিয়ে থাকা অনুষঙ্গই উঠে এসেছে দেবদত্ত গুপ্তের ছবিতে। নদী সেখানে এক জীবন্ত সত্তা: দরিয়ার পাঁচ পিরের কাহিনি, অন্ধকার জলে ভেসে ওঠা অদ্ভুত আলো, নিস্তব্ধ চরে মসনদ-ই-আলার পথ দেখানো বাতি— তার ভাষা। লিনোকাট প্রিন্টের খণ্ডাংশ দিয়ে তৈরি জমিতে কলমের সূক্ষ্ম আঁচড়ে ফুটে উঠেছে ছবি, তারই মধ্যে খাগের কলমে পূর্বজাদের কণ্ঠে শোনা ভাটিয়ালি গান লিখে রাখা (ছবি)। ‘আই লার্নড দ্য রিভার বিফোর আই স ইট’ প্রদর্শনী (কিউরেটর: মিল্টন ভট্টাচার্য) দেখা যাবে এ জে সি বোস রোডের আর্টসি ক্যাফে কফি অ্যান্ড কালচার-এ, ৯ জুন থেকে ২০ জুলাই, সকাল ৮টা-রাত সাড়ে ১০টা।
স্মরণ
তিনি বিশ্বাস করতেন, সমাজবিজ্ঞানীর অরাজনৈতিক অবস্থান বলে কিছু হয় না, তা হলে সমাজবিজ্ঞান-চর্চার অগ্রগতি অসম্ভব। নিজ মতাদর্শে আজীবন অটল থেকেছেন, স্পষ্ট অবস্থান অকুতোভয়ে জানাতে দ্বিধা করেননি শিরীন রত্নাগর। ১৯৪৪-এর মুম্বইয়ে জন্ম, পুণের ডেকান কলেজে প্রত্নতত্ত্বে হাতেখড়ি, লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব আর্কিয়োলজি-তে পশ্চিম এশিয়ার প্রত্নচর্চায় বিশেষ প্রশিক্ষণ। জগৎজোড়া খ্যাতি হরপ্পা সভ্যতার ইতিহাসকার হিসেবে, তা নিয়ে লিখেছেন একাধিক গ্রন্থ। পাশাপাশি, ভারতীয় আদিবাসী সমাজ ‘উন্নয়ন’-এর নামে কী ভাবে মূল-বিচ্ছিন্ন হয়, সে কথাও স্পষ্টাক্ষরে লিখেছেন। সম্প্রতি-প্রয়াত এই পুরাতাত্ত্বিককে পশ্চিমবঙ্গ ইতিহাস সংসদ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতত্ত্ব বিভাগ স্মরণ করবে, ১৯ জুন দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আলিপুর প্রাঙ্গণে। বলবেন কুমকুম রায় বিষ্ণুপ্রিয়া বসাক কণাদ সিংহ ও রণবীর চক্রবর্তী।