উদ্ধার হওয়া জিনিসের সঙ্গে ধৃত মণিরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত।
সিম বক্স জালিয়াতি এখন সারা দেশের পুলিশ এবং গোয়েন্দাদের কাছে মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেআইনি ভাবে সিম বক্সের মাধ্যমে টেলিকম-চক্র চালাচ্ছে প্রতারকেরা। তেমনই চক্রের হদিস মিলল বিধাননগরে। ওই চক্রের মাথাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দাদের নজরে আসে বিধাননগরের ওই চক্র। স্থানীয় এক বহুতলের ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে ন’টি সিমবক্স এবং আড়াই হাজারের বেশি সিমকার্ড উদ্ধার করেছে বিধাননগর পুলিশ। সূত্রের খবর, ওই ফ্ল্যাটে সিম বক্সের মাধ্যমে বেআইনি ভাবে টেলিকম-চক্র চালানো হচ্ছিল। মণিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি গোটা চক্রের পরিচালনা করতেন বলে দাবি। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কী ভাবে এই জালিয়াতি পরিচালিত হয়? পুলিশ সূত্রে খবর, সিম বক্স দেখতে অনেকটা সাধারণ বক্সের মতোই। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই, ওই বক্সই প্রতারণা চক্রের মূল হাতিয়ার। এই যন্ত্র ব্যবহার করে প্রতারকেরা আন্তর্জাতিক কলকে স্থানীয় কল হিসাবে দেখায়। একটা বক্সে একসঙ্গে শতাধিক সিমকার্ড রাখা যায়। বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক কলকে স্থানীয় কলে ঘুরিয়ে দেয় প্রতারকেরা।
সিম বক্সের মাধ্যমে যে কলগুলি ঘোরানো হয়, তার লোকেশন শনাক্ত করা সহজ নয় বলে জানায় পুলিশ। নম্বরগুলি ‘ব্লক’ করাও যায় না। পুলিশ সেই চক্রে হদিস পেল। সিম বক্স, সিমকার্ড ছাড়াও রাউটার, কেবল, পাওয়ার ইউনিট উদ্ধার করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, জেরার মুখে টেলিকম-চক্রের কথা স্বীকার করেছেন মণিরুল। তবে এই চক্রের নেপথ্যে আর কারা কারা রয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।