Sheikh Hasina Extradition

‘হাসিনাকে কি ফেরানো হবে?’ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রশ্নে কী বললেন বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী

২০২৪ সালের ৫ অগস্ট গণঅভ্যুত্থানের চাপে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা চলে এসেছিলেন ভারতে। তাঁকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরানোর ব্যাপারে কী ভাবছেন তারেক রহমান?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৩৬
BNP chief Tarique Rahman comments on Sheikh Hasina’s extradition

(বাঁ দিকে) শেখ হাসিনা এবং তারেক রহমান (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয় পেয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে সরকার গড়ার পথে বিএনপি। নির্বাচনে জয়ের পর শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করেন বিএনপি-প্রধান তারেক। অনেক প্রশ্নের মধ্যে তাঁর কাছে ধেয়ে আসে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিও। সেই প্রশ্নের উত্তরে নিজের অবস্থানের কথা স্পষ্ট করলেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

Advertisement

শুধু হাসিনা নয়, শনিবারের সাংবাদিক বৈঠকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গও ওঠে। পাশাপাশি, পাকিস্তান, চিনের মতো অন্য দেশগুলির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কী হবে, কোন নীতি চলবে তাঁর সরকার— এমন নানা প্রশ্ন করা হয়েছিল তারেককে। সেই সব প্রশ্নের উত্তরে বিএনপি-প্রধান জানান, সব কিছুই নির্ভর করবে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশিদের স্বার্থের উপর!

হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করছে বলে জানান তারেক। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট গণঅভ্যুত্থানের চাপে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা চলে আসেন ভারতে। একাধিক বার মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু নয়াদিল্লি এখনও জবাব দেয়নি। জুলাই গণহত্যার মামলায় বাংলাদেশের আদালতে হাসিনা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরানোর জট এখনও অব্যাহত। সেই আবহেই বাংলাদেশে নির্বাচন হয়। দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জিতে সরকার গঠন করতে চলেছে বিএনপি। হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে কী পরিকল্পনা হবে বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারের? তারেক বলেন, ‘‘এটি আইনি প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করছে।’’

শুক্রবার বাংলাদেশের ভোটের ফল স্পষ্ট হওয়ার পর হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে মুখ খুলেছিলেন বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানিয়েছিলেন, হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি ভারত এবং বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল। আইন মেনেই যা করার তা করা হবে। অনেকটা একই সুর শোনা গেল তারেকের কণ্ঠেও।

বাংলাদেশের এই ভোটে আওয়ামী লীগ লড়াই করেনি। নির্বাচনে হাসিনার দল নিষিদ্ধ ছিল। শনিবার নতুন বাংলাদেশ গড়ার কথা বলে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দেন তারেক। তবে তিনি আওয়ামী লীগের কথা উল্লেখ করেননি। তাঁর কথায়, ‘‘এই জয় বাংলাদেশের। এই জয় গণতন্ত্রের। আজ থেকে আমরা স্বাধীন।’’ তিনি এ-ও বলেন, ‘‘দুর্নীতি সরিয়ে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ এবং মানবিক দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে।’’ তারেক মনে করেন, গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক দলগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এবং বিরোধী দলগুলি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। তারেকের মতে, সকলের মত এবং পথ ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু দেশের স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোন পথে গড়াবে? শনিবারের সাংবাদিক বৈঠকে সেই প্রশ্নের জবাবে তারেক বলেন, ‘‘আমরা আমাদের বিদেশনীতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। এই নীতি তৈরি হবে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশিদের স্বার্থের উপর। সেখানে সর্বদাই বাংলাদেশ এবং দেশের নাগরিকদের স্বার্থ অগ্রাধিকার পাবে। সেই ভিত্তিতে আমরা আমাদের বিদেশনীতি ঠিক করব।’’ এ-ও বুঝিয়ে দেন, শুধু ভারতের জন্য নয়, অন্য দেশগুলির ক্ষেত্রেও এই নীতি প্রযোজ্য হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন