—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
কলকাতার বেলেঘাটার এক বাসিন্দাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল তাঁর। স্থানীয় তৃণমূল নেতা রাজু নস্করের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ওই বাসিন্দা। সেই অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্তে নেমে ওই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ ইএম বাইপাসের অভিষিক্তা মোড়ের কাছ থেকে রাজুকে গ্রেফতার করে প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মারধর এবং খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন বেলেঘাটার সুকমল দেবনাথ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এই গ্রেফতারি বলে জানান কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার। তাঁর কথায়, ‘‘ওই ঘটনায় নির্দিষ্ট অভিযোগ হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’
পুলিশের কাছে সুকমল জানিয়েছেন, রাজু একজন প্রোমোটারও। বেলেঘাটার মেন রোডে একটি ভাড়া বাড়িতে বৃদ্ধা মাকে নিয়ে থাকেন তিনি। প্রায় ৭৫ বছর ধরে ওই বাড়িতেই থাকছেন। তবে ওই জমির উপর রাজুর নজর পড়েছে বলে অভিযোগ সুকমলের। তাঁর দাবি, মাস কয়েক ধরেই ওই বাড়ি খালি করে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল তাঁকে। অভিযোগ, ওই জমিতে প্রোমোটিং করা হবে, তাই বাড়ি খালি করে দেওয়ার কথা বলতেন রাজু এবং সঙ্গীরা। এমনকি, একাধিকবার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রথম থেকেই ভাড়া বাড়ি ছেড়ে যেতে নারাজ ছিলেন সুকমল।
থানায় লিখিত অভিযোগপত্রে সুকমল জানিয়েছিলেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজুর দলবল তাঁর বাড়িতে আসে। তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, রাজুর বেলেঘাটার অফিস সংলগ্ন এলাকায় তাঁকে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয় সুকমলকে। বাড়ি খালি করার জন্য বার বার চাপ দেওয়া হয়। রাজি না-হওয়ায় বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
আহত অবস্থায় হাসপাতালে যান সুকমল। তাঁর মাথা, চোখে এবং কানের কাছে আঘাত লেগেছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর বেলেঘাটা থানায় গিয়ে মারধরের অভিযোগ দায়ের করেন সুকমল। তাঁর অভিযোগ, থানায় যাওয়ার জন্যও তাঁকে হেনস্থার শিকার হতে হয়। বুধবার তাঁর বাড়িতে মহিলাদের পাঠিয়ে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ সুকমলের। তাঁর দাবি, গোটা ঘটনার নেপথ্যে রাজুই রয়েছেন। যদিও ওই তৃণমূল নেতার দাবি ছিল, তিনি সুকমলকে চেনেন না। ওই ঘটনার সঙ্গে কোনও ভাবেই যুক্ত নন। তবে তাঁর দাবি টিকল না। তাঁকে শনিবার গ্রেফতার করল পুলিশ।