RG Kar Rape and Murder Case

আরজি কর কাণ্ড: সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার সীমাকেও কাঠগড়ায় তুলতে চান প্রাক্তন বিচারপতি ও সাংসদ অভিজিৎ

শনিবার দুপুরে আরজি কর হাসপাতালের একটি সিল করা ঘরের কাছে পৌঁছোন তমলুকের বিজেপি সাংসদ তথা কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ওই ঘরের মধ্যে থেকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যেতে পারত! কিন্তু সিবিআই তা করেনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ১৯:১৮
BJP MP Abhijit Gangopadhyay has made multiple allegations against CBI investigating officer Seema Pahuja

ডাক্তারি অ্যাপ্রন পরে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে তমলুকের বিজেপি সাংসদ তথা কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার তদন্তে এ বার সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজাকে নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ তথা কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে সিবিআইয়ের তদন্তের প্রশংসাও করেছেন। পাশাপাশি, একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মূল অভিযোগ সীমাকে নিয়েই। আরজি করে দাঁড়িয়ে অভিজিৎ দাবি করেন, তদন্ত সঠিক ভাবে পরিচালিত করতে ব্যর্থ সীমা। প্রমাণ লোপাটের সাহায্য করেছেন বলেও দাবি বিজেপি সাংসদের। একই সঙ্গে এ-ও দাবি তোলেন, ওই তদন্তকারী অফিসারকে অভিযুক্ত হিসাবে তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

Advertisement

শনিবার দুপুরে হঠাৎই আরজি করে পৌঁছোন অভিজিৎ। হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে চলে যান সিবিআইয়ের সিল করা একটি ঘরের সামনে। তাঁর পরনে ছিল চিকিৎসকদের পোশাক— অ্যাপ্রন। ওই ঘরের সামনে দাঁড়িয়েই সীমার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিজিৎ। তাঁর অভিযোগ, ওই ঘরের মধ্যে থেকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যেতে পারত! কিন্তু সিবিআই তা করেনি। অভিজিতের মূল বক্তব্য, সিবিআই তদন্তে যা ‘গাফিলতি’ হয়েছে, তা সীমার অঙ্গুলিহেলনেই হয়েছে। উল্লেখ্য, সীমা এখনও আরজি কর মামলায় তদন্তকারী অফিসার।

অভিজিৎ যে বন্ধ ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, সেই ঘর থেকেই ২০২৪ সালের অগস্টে মহিলা চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। প্রথমে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। সিবিআই তদন্ত নিয়ে নানা সময়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি, অতীতে আরজি করের নির্যাতিতার মা-বাবাও সিবিআই তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শুধু তা-ই নয়, এই মামলায় সঞ্জয় রায়ের সাজা ঘোষণার পর সীমার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তাঁরা। শিয়ালদহ আদালত চত্বরে সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার সীমার দিকে আঙুল উঁচিয়ে রীতিমতো তেড়ে গিয়েছিলেন নির্যাতিতার বাবা। সীমাকে ‘শয়তান’ও বলেছিলেন তিনি। এ বার সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন বিজেপি সাংসদ।

শুধু ওই সিল করা ঘরে নয়, আরজি করের একটি সিঁড়ি দিয়েও নেমে যেতে দেখা যায় অভিজিৎকে। তিনি দাবি করেন, ওই সিঁড়ি দিয়ে ভারী কিছু নামানো হয়েছিল সেই সময়, সম্ভবত দেহ! তবে সিবিআই ওই সিঁড়িকে তদন্তের আওতায় আনেনি বলেও অভিযোগ বিজেপি সাংসদের। তিনি সীমাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলেও উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে অভিযুক্ত হিসাবে মামলায় যুক্ত করা উচিত সীমাকে।

অভিজিৎ একটি ভিডিয়োর কথাও উল্লেখ করেন। ঘটনার পর পর ওই ভিডিয়োটি রেকর্ড করেছিলেন এক জন নার্স। অভিজিতের দাবি, ওই ভিডিয়ো নার্সের থেকে সংগ্রহ করেছিলেন সীমা। পরে ওই নার্সকে সেই ভিডিয়ো মুছে ফেলতে বলেন তিনি। বিজেপি সাংসদের আরও অভিযোগ, ঘটনার তদন্তে ওই ভিডিয়ো গুরুত্বসহকারে গ্রাহ্য করা হয়নি। সিবিআই তদন্তে এই রকম কোনও ভিডিয়োর উল্লেখ নেই বা মামলা পর্বে আদালতকে এই ধরণের ভিডিয়ো আছে বলেও উল্লেখ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন অভিজিৎ।

Advertisement
আরও পড়ুন