Calcutta High Court on 21 July TMC Rally

২১ জুলাই রাস্তা আটকে সভা! আদালত অবমাননার মামলায় মমতার কাছে হলফনামা তলব করল হাই কোর্ট, অগস্টে শুনানি

২১ জুলাই শহরের মূল রাস্তা বন্ধ করে সভার আয়োজন করায় আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। গত ১৯ জুন এই বিষয়ে মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস দেয় হাই কোর্ট।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ১১:১৭
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

ধর্মতলায় ‘শহিদ দিবস’ পালন নিয়ে আদালত অবমাননার মামলায় তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হলফনামা চাইল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, আদালত অবমাননার মামলায় যুক্ত সব পক্ষ হলফনামা দেবে। আগামী অগস্ট মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

Advertisement

২১ জুলাই শহরের মূল রাস্তা বন্ধ করে সভার আয়োজন করায় আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। গত ১৯ জুন হাই কোর্ট এই বিষয়ে মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস দেয়। ২০১৮ সালে হাই কোর্ট জানিয়েছিল, শহরের কোনও বড় বা প্রধান রাস্তা সভার জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করা যাবে না। অভিযোগ, সেই নির্দেশ অমান্য করে ২০২৫ সালে শহিদ দিবসের সভা করে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল।

তৃণমূলের সভার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি হাই কোর্টে একটি মামলা হয়েছিল। গত ১৯ জুন সেই মামলারই শুনানি হয় বিচারপতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে।

শহরের রাস্তা আটকে রাজনৈতিক দলের সভা-সমিতি সংক্রান্ত মামলায় ২০১৮ সালে হাই কোর্টের বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চ জানিয়েছিল, সভার জন্য কোনও বড় বা প্রধান রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। রাস্তার একটি অংশ সব সময়ে পথচারী এবং যানবাহন চলাচলের জন্য খোলা রাখতে হবে। অ্যাম্বুল্যান্স এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করতে হবে। তা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে আগে থেকে জনগণকে জানিয়ে রাখতে হবে। এ ছাড়া, সভা বা মিছিলে ভাঙচুর বা গোলমাল হলে, হিংসা ছড়ালে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও সেই সময়ে জানিয়েছিল আদালত।

তৃণমূল-সহ রাজ্যের ৩৮টি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে করা জনস্বার্থ মামলায় হাই কোর্ট এই নির্দেশ দিয়েছিল। বিচারপতি ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, বড় কোনও রাজনৈতিক সভা বা মিছিল হলে কলকাতায় ব্যাপক যানজট হয়। তাতে ভুগতে হয় সাধারণ মানুষ, নিত্যযাত্রীদের। অ্যাম্বুল্যান্স বা অন্যান্য জরুরি পরিষেবাও এর ফলে বাধাপ্রাপ্ত হয়। তা অত্যন্ত উদ্বেগের। রাজনৈতিক সভার কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে যেতে পারে না, জানিয়েছিল আদালত। অভিযোগ, সেই নির্দেশ ২০২৫ সালে মানেনি তৃণমূল। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে রাস্তা আটকে ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভা করা হয়েছিল। তাতে বহু মানুষ সমস্যায় পড়েছিলেন। এই সংক্রান্ত মামলাতেই মমতা ও অভিষেককে নোটিস দিয়েছিল হাই কোর্ট। এ বার মমতা-সহ মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল আদালত।

Advertisement
আরও পড়ুন