—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
দোল খেলার সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে বচসার জেরে অশান্তি ছড়াল তপসিয়ার হিঙ্গল জমাদার লেনে। অভিযোগ, পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, স্থানীয় একটি ক্লাবে ভাঙচুর হয়। এলাকায় বোমাবাজি হয় বলেও অভিযোগ। কয়েকটি গাড়ি ও বাড়ি
ভাঙচুর হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাত ৯টা নাগাদ। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাত ৯টায় যে ভাবে তাণ্ডব চলেছে, তাতে তাঁরা রীতিমতো আতঙ্কিত।
এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, সুশান্ত নামে এক স্থানীয় বাসিন্দাকে সানু ও টিঙ্কু নামে দুই যুবক বচসার জেরে মারধর করে। পরে রাতে জিদান নামে সুশান্তের এক আত্মীয় কয়েক জন যুবককে নিয়ে পাড়ায় এসে প্রথমে গোবরাপল্লি নামে একটি স্থানীয় ক্লাবে ভাঙচুর করে। এমনকি, পাড়ার কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে বলেও অভিযোগ। মঙ্গলবারের রাতে ঘটনার পরে বুধবারও দিনভর এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে ছিলেন। যে ক্লাবে ভাঙচুর হয়েছে, সেই ক্লাবের এক সদস্য ভোলানাথ দাস বলেন, ‘‘আমি তখন ক্লাবেই
ছিলাম। জিদানের সঙ্গে মুখে রুমাল বাঁধা ১০-২০ জন যুবক ক্লাবে এসে রীতিমতো তাণ্ডব চালাল। ক্লাবের ক্যারম বোর্ড ফেলে দেওয়া থেকে শুরু করে অনেক জিনিস নষ্ট করেছে। এমনকি, দুটো বোমাও মেরেছে রাস্তায়। বোমার দাগ এখনও রয়েছে। ক্লাবের বাইরে রাখা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে ওরা। কয়েকটা ঘরেও ভাঙচুর হয়েছে।’’
অভিযোগ, যারা ভাঙচুর চালিয়েছে, অর্থাৎ জিদান ও তার দলবল শাসকদলের কর্মী। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এলাকার তৃণমূল পুরপ্রতিনিধি জলি বসু। জলি বলেন, ‘‘জিদান বলে যে তার দলবল নিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তাদের আমি চিনি না। ওরা দলের কেউ নয়। তবে এখন তো সবাই নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করে। দ্রুত অভিযুক্তদের ধরতে হবে।’’
সম্প্রতি কলকাতায় বেশ কয়েকটি বোমাবাজি ও গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি রাতে গোলপার্কের কাছে কাঁকুলিয়ায় দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে বোমা-গুলি চলে। এর পরে বেনিয়াপুকুরেও দুষ্কৃতীরা বচসার জেরে মহম্মদ নিয়াজ নামে এক ব্যক্তির পায়ে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এ বার বোমাবাজির অভিযোগ উঠল তপসিয়ায়। যদিও তপসিয়া থানার পুলিশ বোমাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তপসিয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, রং খেলে বচসার জেরে এই ঘটনা। তবে বোমাবাজির অভিযোগ ঠিক নয়। কিছু ভাঙচুরের
ঘটনা ঘটেছে। এক পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।