Morning Classes

বেশি গরমে স্কুল বন্ধ না রেখে সকালে পরিবর্তনের পক্ষে অধিকাংশ শিক্ষক

চলতি বছরে গরমের ছুটি কাটিয়ে ১ জুন স্কুল খুলেছিল। কিন্তু গরম না কমায় পরের দু’সপ্তাহ সকালে স্কুল করার কথা বলে শিক্ষা দফতর। কিন্তু জুনের মাঝামাঝিও গরম না কমায় পঠনপাঠনের সময়সীমা না কমিয়ে ফের ৩০ জুন পর্যন্ত সকালে স্কুল করার নির্দেশিকা দিয়েছে শিক্ষা দফতর।

আর্যভট্ট খান
শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ০৬:২৩

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

সকালে স্কুল হওয়ায় পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার অনেকটাই বেড়েছে। এমনটাই দাবি রাজ্যের অধিকাংশ প্রধান শিক্ষকের। এ বার থেকে গরম পড়লে অন্য বছরগুলির মতো টানা ছুটি না দিয়ে সকালে স্কুলের সময় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষকেরা। তবে শিক্ষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যে সব শিক্ষক ও পড়ুয়া দূর থেকে আসেন, তাঁদের অনেক ভোরে বেরোতে হচ্ছে। ফলে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। যে সব স্কুলে সকালে প্রাথমিক বিভাগ চলে, সেখানেও সকালে স্কুলের সময় বদল করা যাচ্ছে না।

চলতি বছরে গরমের ছুটি কাটিয়ে ১ জুন স্কুল খুলেছিল। কিন্তু গরম না কমায় পরের দু’সপ্তাহ সকালে স্কুল করার কথা বলে শিক্ষা দফতর। কিন্তু জুনের মাঝামাঝিও গরম না কমায় পঠনপাঠনের সময়সীমা না কমিয়ে ফের ৩০ জুন পর্যন্ত সকালে স্কুল করার নির্দেশিকা দিয়েছে শিক্ষা দফতর।

শিক্ষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরমে স্কুলের সময় বদলে সকালে করার পরিকল্পনা খুবই কাজে দিয়েছে। ঝাড়গ্রামের শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ বিদ্যামন্দিরের (উচ্চ মাধ্যমিক) প্রধান শিক্ষক তপনকুমার দে বলেন, ‘‘ছাত্র-স্বার্থেই স্কুলের পঠনপাঠনের সময়সীমা সামান্য কমানো হয়েছে। গ্রামের দিকে অনেক গরিব পড়ুয়ার ছাতা নেই। ভরদুপুরে বাড়ি ফেরার পথে ওরা অসুস্থ হয়ে যেতে পারে, তাই আমরা সামান্য সময় কমিয়েছি। সকালে স্কুল হওয়ায় উপস্থিতির হারও উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।’’ তপনের মতে, আগামী বছর থেকে গরমের ছুটি খোলার পরে এই একই নিয়মে এক মাস সকালে স্কুল হোক।

বাটানগরের জগতলা সূর্যকুমার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমন মজুমদার বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলে সকালে আবার প্রাথমিক বিভাগ চলে। ওই প্রাথমিক বিভাগের সময় কিছুটা কমিয়ে আমরা দুপুরের স্কুলের সময় একটু এগিয়ে এনেছি। সব মিলিয়ে পঠনপাঠনের সময় সামান্য কমলেও পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার ভালই বেড়েছে।’’ শিক্ষকদের একাংশের মতে, আর্থিক ভাবে দুর্বল পড়ুয়াদের অনেকেই স্কুলে পড়ার পাশাপাশি কাজ করে। তাদের অনেকেই দিনের স্কুলে অনিয়মিত ছিল। এখন সকালে স্কুল হওয়ায় তারা নিয়মিত আসছে। কারণ, বেলা ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে স্কুল ছুটি হয়ে যাচ্ছে।

নিমতা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কল্যাণ আশিস দাস বলেন, ‘‘পড়ুয়াদের কথা ভেবে পঠনপাঠনের সময় কিছুটা কমাতে বাধ্য হয়েছি। আবার টিফিনের সময় থেকে মাত্র পাঁচ মিনিট কমাতে পেরেছি। কারণ, গরম গরম মিড-ডে মিল খেতে পড়ুয়াদের কিছুটা তো সময় লাগবেই।’’ তবে কল্যাণও জানাচ্ছেন, সকালে স্কুল হওয়ায় পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার কিছুটা বেড়েছে। যাদবপুরের কাটজুনগর স্বর্ণময়ী বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক অনিন্দ্য বিশ্বাস বলছেন, ‘‘স্কুল শুরুর সময় কিছুটা এগিয়ে নিয়েছি। স্কুলের টিফিনের আগে যে সব পিরিয়ড ৪০ মিনিট করে ছিল, সেগুলো ৩৫ মিনিট করে নিতে হয়েছে।’’

তবে কিছু স্কুল আছে যারা সময়সীমা কমায়নি। যেমন নদিয়ার বিষ্ণুপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুশিতাভ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমরা কিন্তু শিক্ষা দফতরের নির্দেশ মতো পঠনপাঠনের সময়সীমা একটুও কমাইনি। প্রার্থনা শেষ হয় ৬টা ৫৫ মিনিটে। এর পরে ক্লাসের যে সময়সীমা তা একই রেখে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে ছুটি দিচ্ছি। টিফিনের সময় কমিয়ে ১৫ মিনিট করেছি।’’

যে সব স্কুল সময়সীমা না কমিয়ে স্কুল করছে, সেই সব স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের দাবি, তাঁরা শিক্ষা দফতরের নিয়ম মেনে পঠনপাঠনের সময় না কমিয়ে স্কুল করছেন। তাঁদের অভিযোগ, বেশির ভাগ স্কুলই তা করছে না। ফলে স্কুলে পঠনপাঠনের সময়ের বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এ দিকে শিক্ষা দফতরের নজর দেওয়া দরকার।

আরও পড়ুন