শহরে বেড়েই চলেছে হেলমেটবিহীন আরোহীর সংখ্যা। ছবি: সংগৃহীত।
শহরে হেলমেট না পরে বাইক চালানো এবং হেলমেটবিহীন আরোহীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সেই পরিসংখ্যান হাতে আসায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে। গত বছরে এই ধরনের ট্রাফিক আইনভঙ্গের ঘটনা পাঁচ লক্ষেরও বেশি ছাড়িয়েছে বলে পরিবহণ দফতরের পরিসংখ্যান জানাচ্ছে। মাত্র দু’বছরের ব্যবধানে এই সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রশাসনের অন্দরেই। পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে যেখানে হেলমেটবিহীন বাইক আরোহীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল প্রায় ১.৭ লক্ষ, সেখানে ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লক্ষেরও বেশি। আর ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা ৫ লক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আইনভঙ্গের প্রবণতা ভয়াবহ ভাবে বেড়েছে।
পরিসংখ্যান আরও বলছে, শুধু কলকাতাই নয়, শহরতলি ও সংলগ্ন জেলাগুলিতেও একই ছবি। হেলমেট না পরেই বাইক চালানো কিংবা পিলিয়ন রাইডারের হেলমেটবিহীন অবস্থায় যাতায়াত— দুই ক্ষেত্রেই নিয়ম ভাঙার প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি বলে মনে করছে প্রশাসন। পুলিশ ও পরিবহণ দফতর নিয়মিত অভিযান চালালেও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হচ্ছে না। ট্রাফিক পুলিশের দাবি, প্রতিদিনই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে, ই-চালান কাটা হচ্ছে, তবুও অনেকেই নিয়ম মানতে নারাজ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, জরিমানা দেওয়ার পরও একই ব্যক্তি আবার একই অপরাধ করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাবই এই সমস্যার মূল কারণ। শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, স্কুল-কলেজ স্তর থেকে শুরু করে সর্বস্তরে নিরাপদ যাতায়াত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। হেলমেট ব্যবহার যে শুধুমাত্র আইন নয়, প্রাণরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি— এই বার্তা আরও জোরদার ভাবে পৌঁছে দিতে হবে। প্রশাসনের একাংশের মতে, কঠোর শাস্তির পাশাপাশি নিয়মিত প্রচার, ক্যাম্পেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো গেলে এই প্রবণতা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। না হলে আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা।