কলকাতা পুরসভা। —ফাইল চিত্র।
বর্ষায় শহরের বিপজ্জনক বাড়িগুলি দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বৃষ্টির জেরে জীর্ণ বাড়ির অংশ ভেঙে পড়ে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। তার পুনরাবৃত্তি রুখতে প্রাক্-বর্ষা প্রস্তুতি বৈঠকে পুর আধিকারিকদের বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দিলেন কলকাতা পুরসভার নবনিযুক্ত প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে।
বুধবার বিবেকানন্দ পার্ক সংলগ্ন কমিউনিটি হলে দক্ষিণ কলকাতার বিধায়ক ও পুরপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন তিনি। ব্যস্ত থাকায় ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে ছিলেন তাঁর প্রতিনিধিরা।
পুরসভা সূত্রের খবর, শহরে তিন হাজারেরও বেশি বিপজ্জনক বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকশো বাড়ি ‘অতি বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত। দক্ষিণ কলকাতার তুলনায় উত্তর কলকাতায় বিপজ্জনক বাড়ির সংখ্যা বেশি।
বৈঠক শেষে স্মিতা পাণ্ডে বলেন, ‘‘সোমবার উত্তর কলকাতার বিধায়ক ও পুরপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেছি। বিপজ্জনক বাড়িগুলি আমাদের নজরে রয়েছে। ইতিমধ্যে পুরসভা, দমকল ও সিইএসসি-কে নিয়ে গঠিত যৌথ পরিদর্শক দল মাঠে নেমে কাজ করছে। বিপজ্জনক বাড়িগুলি চিহ্নিত করে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটেদের প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলি পাঠাচ্ছি।’’
তবে বিপজ্জনক বাড়ি সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কথাও উঠে আসে। পুরসভার দাবি, বহু ক্ষেত্রে বাড়ির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হলেও ভাড়াটেরা সরতে চান না। আবার পুরসভা কোনও বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত নিলে মালিক বা ভাড়াটেরা আদালতের দ্বারস্থ হন। ফলে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়।
এ দিনের বৈঠকে কলকাতা বন্দরের বিধায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ‘‘বর্ষায় নিকাশি নালাগুলি যাতে নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়, সে বিষয়ে পুর কমিশনারকে বলেছি। বেশ কয়েকটি নিকাশি পাম্পিং স্টেশনের কাজ চলছে। সেগুলি যাতে দ্রুত সম্পূর্ণ হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছি।’’
বর্ষাকালে শহরে ডেঙ্গিও অন্যতম উদ্বেগের কারণ। অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন থানার সামনে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত গাড়ি পড়ে থাকে, যেখানে বৃষ্টির জল জমে মশার লার্ভা জন্মানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
সেই কারণে বৈঠকে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের থানার সামনে থাকা সমস্ত পরিত্যক্ত গাড়ি দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বর্ষার সময়ে কলকাতা পুর এলাকার সমস্ত নিকাশি পাম্পিং স্টেশন যাতে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে নিকাশি বিভাগের আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পাম্পিং স্টেশনে পর্যাপ্ত সংখ্যক পাম্প মজুত রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এ দিনের বৈঠকে।
বৈঠকে দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন পুরপ্রতিনিধি তাঁদের এলাকার সমস্যা ও মতামত তুলে ধরেন। পুর-প্রশাসক সেগুলি শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।