দমদম বিমানমন্দর। ফাইল চিত্র।
শহরের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কম ভাড়ার ঘরোয়া উড়ানের যাত্রী-সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বছরে প্রায় ২.২ কোটি যাত্রী এখন কলকাতা বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেন। বর্তমানে বিমানবন্দরের টার্মিনালের যাত্রী-ধারণ ক্ষমতা ২.৬ কোটির কাছাকাছি। ২০৩০ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলতে পারে বিমানবন্দর। ফলে, এখনই টার্মিনাল সম্প্রসারণের কাজ শুরু না করলে ভবিষ্যতে যাত্রী-পরিষেবা সঙ্কটে পড়তে পারে। সে কথা মাথায় রেখেই পুরনো টার্মিনাল ভেঙে বর্তমান টার্মিনাল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০৩৩ সালের মধ্যে বছরে চার কোটি যাত্রী ধারণের উপযোগী ওই পরিকাঠামো তৈরি হয়ে যাওয়ার কথা।
কলকাতায় যাত্রী-সংখ্যা বৃদ্ধির এই প্রবণতা দেখা গেলেও এ শহরের কিছু নিজস্ব সীমাবদ্ধতা আছে। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যেখানে চারটি রানওয়ে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করার ফলে ঘণ্টায় ৭৫টি বিমান ওঠানামা করতে পারে, সেখানে কলকাতায় সেই সংখ্যা বড়জোর ৩৫ থেকে ৪০। নতুন এপ্রন, ট্যাক্সি ট্র্যাক এবং র্যাপিড এক্সিট ট্যাক্সিওয়ে তৈরি করে বিমানগুলির রানওয়ে দখল করে রাখার সময় উল্লেখযোগ্য হারে কমানো গিয়েছে বলে দাবি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের। কিন্তু তার পরেও কলকাতায় দু’টি রানওয়ে কখনওই একযোগে বিমান ওঠানামার জন্য ব্যবহার করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সমান্তরাল দু’টি রানওয়ের সেন্ট্রাল লাইনের মধ্যে যেখানে ন্যূনতম দূরত্ব ১৩৬০ মিটার থাকা জরুরি, সেখানে কলকাতার ক্ষেত্রে তা আছে মাত্র ২২০ মিটারের কাছাকাছি। তাই কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ভবিষ্যতে উড়ানের সংখ্যা যথেচ্ছ ভাবে বাড়ানো সম্ভব নয়। এখন ওই বিমানবন্দর থেকে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে দিনে ৪২০টির মতো বিমান ওঠানামা করে।
এই সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখেই শহরের কাছাকাছি কল্যাণীতে দ্বিতীয় বিমানবন্দর নির্মাণের কথা ভাবতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কলকাতা বিমানবন্দরে চালু পরিকাঠামোর পরিকল্পিত সম্প্রসারণের কথাও ভাবতে হচ্ছে। এ জন্য বিমানবন্দরের পুরনো টার্মিনাল ভেঙে একটি ‘ইউ’ আকৃতির টার্মিনাল তৈরির কথা ভাবা হয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক উড়ানের জন্যই ওই টার্মিনালের কথা ভাবা হচ্ছে। সম্প্রসারণের পরে বর্তমান টার্মিনালের পুরো অংশই ঘরোয়া উড়ানের যাত্রীদের চাহিদা মেটানোর কাজে ব্যবহারের কথা ভাবা হয়েছে।
মাস দেড়েকের মধ্যেই পুরনো টার্মিনাল ভাঙার কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে বিমানবন্দর সূত্রের খবর। ওই কাজে ‘এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া’র সম্মতি মিলেছে। পাশাপাশি, একটি মসজিদ সরিয়ে বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করতে ‘এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া’র দিল্লির কার্যালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে। এ বিষয়ে বিমানবন্দরের এক কর্তা বলেন, ‘‘চালু পরিকাঠামোর সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে যা যা পরিবর্তন আনা যায়, তা-ই করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিকেও ব্যাপক ভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে।’’
পুরনো টার্মিনাল ভেঙে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তাতে এরোব্রিজের সংখ্যা ১৮ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩০টির বেশি হওয়ার কথা। টার্মিনালের পরিসর ২৪ লক্ষ বর্গফুট থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭ লক্ষ বর্গফুটে পৌঁছনোর কথা। নবনির্মিত টার্মিনাল বর্তমান টার্মিনালের গা ঘেঁষে গড়ে উঠবে বলে জানানো হয়েছে। ওই টার্মিনালের জন্য বিমানবন্দরে কার্গো বা পণ্য ওঠানো-নামানোর ব্যবস্থা পূর্ব দিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।