করে শুরু হবে চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ? —ফাইল চিত্র।
কেন চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে রাজ্যকে ভর্ৎসনা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই ভর্ৎসনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিজ্ঞপ্তি জারি করে মেট্রোকে কাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়া হল কলকাতা পুলিশের তরফে। ১৫ মে-র পর থেকে কাজ চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষকে। তার পর আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী তারিখগুলি স্থির করা হবে। গত ২৬ মার্চ কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে মেট্রোকে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আরভিএনএলের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ মে থেকে চিংড়িঘাটায় ট্রাফিক ব্লক করে শুরু হবে কাজ। তার পর ক্রমে তিন থেকে চার দিনের অনুমতি নেওয়া হবে ট্র্যাফিক পুলিশের কাছ থেকে। বর্ষা আসার আগেই এই কাজ শেষ করতে চায় বলে জানানো হয়েছে আরভিএনএলের তরফে। ৩৬৬ মিটার লাইন জোড়া লাগলেই নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর লাইনে ওই কাজ সম্পূর্ণ হবে।
প্রসঙ্গত, চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে গত ২৩ মার্চ ভর্ৎসনার মুখে পড়ে রাজ্য। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশই বহাল রাখে। রাজ্য সরকারকে মামলাটি তুলে নিতে বলা হয়। তা না-করা হলে মামলাটি সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হবে, জানান বিচারপতিরা। চিংড়িঘাটা মেট্রোর বকেয়া কাজ নিয়ে রাজ্য সরকার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করেছে বলেও মন্তব্য করে আদালত। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “সব কিছু রাজনীতির মধ্যে টেনে আনবেন না। এটা উন্নয়নের বিষয়।”
চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে টানাপড়েন চলছে। মাত্র ৩১৬ বর্গমিটার অংশের জন্য আটকে রয়েছে নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রোর অরেঞ্জ লাইন সম্প্রসারণের কাজ। চিংড়িঘাটার একেবারে মোড়ে ওই অংশের কাজ শেষ করার জন্য সাময়িক ভাবে বাইপাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। কিন্তু অভিযোগ, রাজ্য সরকার অনুমতি দিচ্ছে না। ফলে কাজও এগোচ্ছে না। কলকাতা হাই কোর্ট এ বিষয়ে রাজ্য, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার (ট্রাফিক), ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক)-কে ছাড়পত্র (এনওসি) দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। জট কাটাতে আদালতের নির্দেশে মেট্রো, রাজ্য এবং নির্মাণকারী সংস্থার একাধিক বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু সমাধানসূত্র বেরোয়নি।