লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি আধিকারিকেরা। —নিজস্ব চিত্র।
তৃণমূল ও রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ইডির হানা নিয়ে বিশদে জানতে এ বার তাঁর প্রতিবেশীদের সঙ্গেও কথা বলতে চায় পুলিশ। ৭, লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়ির আশপাশে যাঁরা থাকেন, তাঁদের বয়ান সংগ্রহ করা হতে পারে। ইডি সে দিন ঠিক কখন এসেছিল, পুলিশ পৌঁছোনোর আগে পর্যন্ত কী কী করেছে, পরেই বা কী ঘটে, কেউ কিছু দেখেছেন কি না, এলাকার বাসিন্দাদের কাছে তা জানতে চাওয়া হবে। থানায় ডেকে প্রতীকের প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলতে পারে পুলিশ।
আইপ্যাক কর্ণধারের বাড়িতে গত ৮ জানুয়ারি ভোরে হানা দিয়েছিল ইডি। কয়েক ঘণ্টা পরে সেখানে পুলিশ যায়। অভিযোগ, পুলিশকে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। নীচে দেখানো হয়নি কোনও পরিচয়পত্র বা তল্লাশির পরোয়ানা। এমনকি, বাড়ির সামনে পুলিশকে ধাক্কাধাক্কির অভিযোগও তোলা হয়েছে। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাক্কা খেয়েছেন কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায়। পরে প্রতীকের বাড়িতে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রতীকের বাড়িতে ইডির হানা নিয়ে ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শেক্সপিয়র সরণি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ ছাড়া, বাড়িতে ঢুকতে বাধা পাওয়ায় পুলিশের তরফেও স্বতঃপ্রণোদিত একটি অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তার তদন্তও চলছে। শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ আগেই প্রতীকের বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী, পরিচারিকার বয়ান সংগ্রহ করেছে। সংগ্রহ করা হয়েছে বাড়ির সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ।
ইডির তল্লাশি চলাকালীনই প্রতীকের বাড়ি এবং আইপ্যাক দফতরে ঢুকে মমতা কিছু নথি, ল্যাপটপ বার করে আনেন। অভিযোগ, আইপ্যাক দফতরে ইডির হানা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আসলে এর মাধ্যমে তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশল হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইডির পাল্টা দাবি, বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় লাউডন স্ট্রিট এবং সল্টলেকের আইপ্যাক দফতরে তারা তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল। কিন্তু তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। মমতার বিরুদ্ধে সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নথি কে়ড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকেরা। এই ঘটনার রিপোর্ট দিল্লিতেও পাঠানো হয়েছে।
আইপ্যাক-কাণ্ডের জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। ইডির তরফে তদন্তে বাধার অভিযোগে হাই কোর্টে মামলা করা হয়েছিল। পাল্টা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে তৃণমূলও। এই জোড়া মামলার শুনানি ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। তবে এর মধ্যে ই়ডি আবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। জোড়া মামলায় যুক্ত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী, সিপি এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের নাম।