বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। —ফাইল চিত্র।
নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর বিধানসভার জাল সইকাণ্ড— ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে তৃণমূল। সদ্য তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিধানসভায় যখন ৫৮ তৃণমূল বিধায়ক জানাচ্ছেন যে, তাঁরাই নয়া তৃণমূল, তখন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে আলোচনায় ওই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত শনিবার সোনারপুরে তাঁকে হেনস্থা এবং আক্রমণের ঘটনার পর এই প্রথম বাড়ি থেকে বার হলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক। মমতার বাড়িতে ঢোকার সময় তাঁর হাতে দেখা গিয়েছে কাগজপত্র। কালীঘাটে মমতার বাড়িতে গিয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
সকালেই রাজ্য এবং জেলায় তাদের সমস্ত কমিটি এবং শাখা কমিটি ভেঙে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে তৃণমূল। তার পরে বিধানসভায় ঋতব্রতের নেতৃত্বে বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কেরা পরিষদীয় দল গড়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে বুধবার বিকেলে আলোচনায় বসেন মমতা-অভিষেকরা। তৃণমূলের একটি সূত্রে খবর, সকাল থেকে দলের জেলা এবং ব্লক স্তরের নেতারা ফোন করছেন মমতাকে। নেত্রীর কাছে তাঁদের প্রশ্ন, এ বার কী করবেন। ওই সমস্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য অভিষেক-কুণালদের ডেকেছেন মমতা।
অন্য দিকে, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে ঋতব্রতকে সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়কেরা সমর্থন জানিয়েছেন। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসাবে ঋতব্রত বলেছেন, পরিষদীয় দলে পরামর্শদাতা হিসাবে থাকুন নেত্রী মমতা। কিন্তু সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদ অভিষেকের সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। এমতাবস্থায় মমতা-অভিষেক কী সিদ্ধান্ত নেন, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।