কলকাতা হাই কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
নথিপত্র আছে, আছে ফার্স্ট ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দায়ের করা হলফনামাও। তবু নাম বদলে রাজি ছিল না আধার কার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থা ইউআইডিএআই। যার জেরে শিক্ষার নথির সঙ্গে আধারের নামে ফারাক থেকে গিয়েছিল। এই নাম-বিভ্রাটের জেরে নিউ টাউনের বাসিন্দা এক পরীক্ষার্থীর ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষার (নিট) আবেদনও বাতিল হয়ে গিয়েছিল। শেষমেশ কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই পড়ুয়ার অভিভাবকেরা। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও নির্দেশ দিয়েছেন, সব তথ্য খতিয়ে দেখে ইউআইডিএআই-কে ওই পড়ুয়ার আধার কার্ডে নাম সংশোধনের জন্য পদক্ষেপ করতে হবে। পড়ুয়ার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, কোর্টের নির্দেশ মতো আবেদন করা হয়েছে। তবে, এখনও সংশোধিত আধার কার্ড মেলেনি।
কোর্টের খবর, জন্মের শংসাপত্রে ওই পড়ুয়ার নাম শুভ্রদীপ কুণ্ডু ওরফে অভিরূপ কুণ্ডু। কিন্তু তার পরে যাবতীয় নথিপত্রে এবং স্কুলে তার নাম অভিরূপ কুণ্ডু হিসেবে নথিবদ্ধ হয়েছে। তবে, আধার কার্ডে নাম আছে শুভ্রদীপ কুণ্ডু। ওই সব নথি দিয়ে নিট-এ আবেদন করেছিলেন তিনি। কিন্তু নামের ফারাক থাকায় আবেদন বাতিল হয়ে যায়। অভিযোগ, ইউআইডিএআই-এর কাছে মূল নাম পরিবর্তনের দরখাস্ত করা হলেও তা খারিজ হয়। তখন হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় অভিরূপের পরিবার।
মামলাকারীর আইনজীবী মলয় ভট্টাচার্য এবং শুভ্রজ্যোতি ঘোষের দাবি, স্কুলের দশম শ্রেণির শংসাপত্র ছাড়াও জাতিগত শংসাপত্র এবং আবাসিক শংসাপত্রে ওই পড়ুয়ার নাম অভিরূপ। তাঁর আইনি অভিভাবক হলেন ঠাকুরদা। মূল নামের সমস্যা মেটাতে পৌত্রের নাম পরিবর্তনের জন্য আইনানুগ পদক্ষেপ করেন তিনিই। আলিপুরের ফার্স্ট ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হলফনামা দিয়ে জানানো হয়, অভিরূপ কুণ্ডু এবং শুভ্রদীপ কুণ্ডু একই ব্যক্তি। কিন্তু, যাবতীয় নথি দেওয়ার পরেও নাম পরিবর্তনের আর্জি খারিজ করে ইউআইডিএআই।
তাদের আইনজীবীরা পাল্টা যুক্তি দেন, আধার আইনের ৩৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি ও ছবি-সহ প্রমাণ দিতে পারেননি অভিরূপ। তাই অভিরূপ কুণ্ডু এবং শুভ্রদীপ কুণ্ডু যে একই ব্যক্তি, তা নির্ণয় করা যায়নি। তবে সেই যুক্তি খারিজ করে দেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও।