তারাতলাকাণ্ডে চলছে উদ্ধারকাজ। —ফাইল চিত্র।
প্রাণে বাঁচতে বন্ধু সহায়! তারাতলাকাণ্ডে ভেঙে পড়া গুদামের ভিতর আটকে পড়ার পর বন্ধুকে ফোন করেছিলেন বছর উনিশের যুবক মন্নু কুমার। বেশ কয়েক ঘণ্টা আটকে থাকার পর বন্ধুকে ফোন করেন তিনি। ফোন পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সেই বন্ধু। মন্নুর পাঠানো লোকেশন সেনা এবং উদ্ধারকারী দলকে দেখান তিনি। তার পরেই বৃহস্পতিবার ভোরে গুদামের ভিতর থেকে মনুকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন উদ্ধারকারীরা।
বুধবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে তারাতলায় আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ। লোহার কাঠামো, কংক্রিটের স্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান অন্তত ৪০ জন শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মন্নু। মন্নু আদতে বিহারের মুঙ্গেরের বাসিন্দা। কর্মসূত্রে তিনি কলকাতায় থাকতেন। তাঁর বন্ধু বিভূতি কুমারও বিহারের বাসিন্দা। তিনিও কর্মসূত্রে কলকাতার অন্যত্র থাকেন। বেশ কয়েক ঘণ্টা গুদামের ভিতর আটকে থাকার পর রাতের দিকে বিভূতিকে ফোন করেছিলেন মন্নু। বন্ধুকে প্রাণে বাঁচানোর আর্জি জানান তিনি। গুদামের ঠিক কোন অংশে আটকে পড়েছেন, তা জানাতে লোকেশনও শেয়ার করেন।
সেই লোকেশন দেখেই উদ্ধার করা হয় মন্নুকে। বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তারাতলার ঘটনায় যে ১৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাঁদের মধ্যে মন্নুর নামও রয়েছে। তবে একটি সূত্রের দাবি, তিনি মারা গিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ১৪ থেকে বেড়ে ১৫ হবে। অবশ্য সরকারি ভাবে শুক্রবার সকালে যে মৃতের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে মন্নুর নাম নেই।