Partha Chatterjee

জেলমুক্তির পর প্রথম বেহালা পশ্চিমে পার্থ, ভোটে লড়াই নিয়ে সিদ্ধান্ত তৃণমূল নেতৃত্বের উপরে ছাড়লেন বিধায়ক

শনিবার দুপুরে নিজের নাকতলার বাসভবন থেকে বেহালায় যান পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বেলা পৌনে একটা নাগাদ ম্যান্টনে নিজের বিধায়ক কার্যলয়ের সামনে পৌঁছে নিজের অনুগামীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:১০
Partha Chatterjee visits his assembly constituency

অনুগামীদের অনুরোধ চা-পান পার্থের। শনিবার বেহালা ম্যান্টনে। —নিজস্ব চিত্র।

জেলমুক্তির পর এই প্রথম নিজের বিধানসভায় পা রাখলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শনিবার দুপুরে নিজের নাকতলার বাসভবন থেকে বেহালায় যান তিনি। বেলা পৌনে একটা নাগাদ ম্যান্টনে নিজের বিধায়ক কার্যলয়ের সামনে পৌঁছে নিজের অনুগামীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পার্থকে প্রশ্ন করা হয় তিনি কি আবার বেহালা পশ্চিম থেকে ভোটে দাঁড়াতে চান? ওই কেন্দ্রের পাঁচ বারের বিধায়ক বলেন, ‘‘আমি ভোটে দাঁড়াব কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দল। তার পর আমার মত, তবে এটুকু বলতে পারি আমি দলের সঙ্গেই আছি।’’ প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে প্রথম বার বহুজাতিক সংস্থার চাকরি ছেড়ে বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী হন পার্থ।

Advertisement

সে বার সিপিএমের দাপুটে নেতা নির্মল মুখোপাধ্যায়কে হারিয়ে বিধানসভার সদস্য হন পার্থ। ২০০৬ সালের তৃণমূলের ভরাডুবিতেও যে ৩০ জন বিধায়ক জয়ী হয়েছিলেন, তাঁদের এক জন ছিলেন পার্থ। সে বার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পার্থের কাঁধে দিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পর ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালেও বেহালা পশ্চিম থেকে জয়ী হন পার্থ। কিন্তু ২০২২ সালের ২২ জুলাই গভীর রাতে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ইডির হাতে গ্রেফতার হন তৎকালীন তৃণমূল মহাসচিব তথা শিল্পমন্ত্রী পার্থ। তার পর আর নিজের বিধানসভায় পা রাখতে পারেননি তিনি। তিন বছর তিন মাসের বেশি সময় জেলবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে গত বছর নভেম্বর বাড়িতে ফেরেন। কিন্তু তার পর হাতে আঘাত পেয়ে তাঁকে এক মাসের বেশি সময় হাসপাতলে থাকতে হয়েছিল। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছিলেন, শারীরিক ভাবে পুরোপুরি সুস্থ হলে বেহালা পশ্চিম বিধানসভায় ভোটারদের ধন্যবাদ জানাতে যাবেন। সেই মতো ভাষা দিবসের দিনটিকে নিজের বিধানসভায় যাওয়ার দিন হিসাবে বেছে নেন পার্থ।

তবে গ্রেফতার হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হয়েছিল। পাশাপাশি তৃণমূল মহাসচিবের পদ থেকে পার্থকে সরানোর পাশাপাশি দল থেকে ছয় বছরের জন্য নিলম্বিতও (সাসপেন্ড) করা হয়। তা এখনও বহাল রয়েছে। জেলমুক্তির পরেও পার্থকে দলে ফেরানোর আগ্রহ দেখা যায়নি তৃণমূলে। তাই তাঁকে আবার টিকিট না-ও দেওয়া হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যেহেতু, পার্থর বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, এখনও তিনি অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন। সঙ্গে তিন বছরের বেশি সময় জেলে কাটিয়ে এসেছেন। মূলত এই বিষয়গুলির উপর নজর রেখেই পার্থকে বেহালা পশ্চিমে বা অন্য কোথাও প্রার্থী করার ভাবনা নেই তৃণমূলে।

তবে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে এসে পার্থ বলেছেন, ‘‘বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তাঁরা পাঁচ বার যে ভাবে আমাকে জিতিয়ে বিধানসভার সদস্য করেছিলেন, সেই কৃতজ্ঞতা আমি সব সময় বজায় রাখব। আমি এখানে বলতে এসেছি আমি তোমাদেরই লোক।’’

যদিও বেহালা পশ্চিমের অধীনে তৃণমূলের ১০ জন কাউন্সিলদের এক জনকেও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেখা যায়নি। তাই অনুগামীদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর, তাঁদের অনুরোধে গাড়িতে বসেই চা পান করেন তিনি। পরে বেহালা পশ্চিম বিধানসভা এলাকা পরিদর্শনে বেরোন। কিছু ক্ষণ গাড়ি নিয়ে নিজের বিধানসভা এলাকা ঘুরে দেখার পর নাকতলার উদ্দেশে রওনা দেন।

Advertisement
আরও পড়ুন