Mamata Banerjee

আমার বই মনোনীত হওয়ায় বাদ দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গকে! সাহিত্য অকাদেমিতে ‘বাঙালিদের বঞ্চনা’ নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ মমতার

গত বছরে কোনও বাঙালি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পাননি। অতীতের ৫২ বছরে এমন ঘটনা কখনও দেখা যায়নি। তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল গত বছরই। শনিবার সেই বিতর্ক ফের উস্কে দিলেন মমতা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৮
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

গত বছর দিল্লির সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের লেখা বই। সেই কারণেই গত বছর পশ্চিমবঙ্গের কোনও সাহিত্যিককে ওই পুরস্কার দেওয়া হয়নি। এমনটাই দাবি মুখ্যমন্ত্রী মমতার। বাঙালিদের প্রতি ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলে ফের এক বার বিঁধলেন কেন্দ্রীয় সরকারকে।

Advertisement

সাহিত্য অকাদেমি একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। তবে এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের আওতাধীন। গত বছর সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার থেকে ‘বঞ্চিত’ থাকে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের কোনও সাহিত্যিক ওই পুরস্কার পাননি, যা অতীতে ৫২ বছরে কখনও দেখা যায়নি। তা নিয়ে বিতর্কও হয়েছিল। প্রায় এক বছর পরে ফের সেই বিতর্ক উস্কে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার দেশপ্রিয় পার্কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা উদ্‌যাপন এবং বঙ্গবিভূষণ-বঙ্গভূষণ সম্মাননার অনুষ্ঠান থেকে মমতা বলেন, “আগের বার সাহিত্য অকাদেমি দিল্লির অনুষ্ঠানে আমার একটা বই সিলেক্ট (মনোনীত) হয়েছিল। তাই বাংলাকে বাদ দিয়েছিল। আমি ওদের কোনও উপহার পাওয়ার জন্য লালায়িত নই। আমি মনে করি, মানুষের উপহারই আমার কাছে সবচেয়ে বড় উপহার।”

একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই বছরেও পশ্চিমবঙ্গের কাউকে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে না। কেন দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নাম না করে কেন্দ্রকে বিঁধে মমতা বললেন, “এ বছরও আপনারা বাংলাকে দেননি। কেন দেননি? বাংলায় সাহিত্যিক, সংস্কৃতিমনস্ক লোক নেই? বাংলা কবিতা লেখে না, গান রচনা হয় না, গান গায় না, চলচ্চিত্র নেই, টেলি-টলি নেই? বাংলাকে এত অসম্মান করেন কেন! মনে রাখবেন, একুশ মানেই সংগ্রাম। একুশ মানেই অঙ্গীকার।”

মমতার অভিযোগ, নির্দিষ্ট কিছু বিধর্মী এবং বাংলাবিদ্বেষী লোক পশ্চিমবঙ্গের উপরে অত্যাচার চালাচ্ছে। সরাসরি কারও নাম না-নিলেও মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় যে ছিল কেন্দ্রের বিজেপিশাসিত সরকার, তা স্পষ্ট। কেন্দ্রকে বিঁধে তিনি বলেন, “বাংলা ভাষা আপনাদের দয়ায় আসেনি। ১৯৫০ সালে সংবিধান যখন প্রণয়ন হয়েছিল, তখন থেকেই বাংলা ভাষা রেজিস্টার্ড এবং অষ্টম তফসিলিভুক্ত ভাষা হিসাবে স্বীকৃত, কারও দয়ায় আসেনি।”

বাংলা ভাষা যে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা পেয়েছে, তার জন্য রাজ্য সরকারের যে ভূমিকা ছিল, তা স্মরণ করিয়ে দেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, অন্য বিভিন্ন রাজ্যের আঞ্চলিক ভাষাকে এই মর্যাদা দিলেও, বাংলা ভাষাকে ‘বঞ্চিত’ করে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, “যদি ধ্রুপদ নিয়ে বলেন, সব রাজ্যকে দিয়েছিলেন। একমাত্র বাংলা বাদ ছিল। আমি ব্রাত্যকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলা সাহিত্য অ্যাকাডেমি থেকে ১০ বস্তা বই রিসার্চ করিয়ে আমরা দিল্লিতে পাঠিয়েছিলাম। যেটা তারা (কেন্দ্র) অস্বীকার করতে পারে না। প্রমাণ আছে।”

বস্তুত, সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য তাঁদের উপরে অত্যাচার হয়েছে, এমন অভিযোগও তুলেছে রাজ্য সরকার এবং রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। বাঙালিদের প্রতি ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ নিয়েও বার বার সরব হয়েছেন মমতা। এ বার রাজ্য সরকারের বঙ্গবিভূষণ এবং বঙ্গভূষণ সম্মান দেওয়ার সময়েও সেই বাঙালি ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ উস্কে দিলেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন