মাওবাদী নেতা মাধাই পাত্র। মঙ্গলবার কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। — নিজস্ব চিত্র।
কলকাতায় গ্রেফতার হলেন ঝাড়খণ্ডের প্রবীণ মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলা। উত্তর কাশীপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। নদিয়ার চাকদহের বাসিন্দা বেলা মাওবাদীদের ঝাড়খণ্ড আঞ্চলিক কমিটির সদস্য। দীর্ঘ দিন থেকে ঝাড়খণ্ডে সক্রিয় ছিলেন তিনি। পাশাপাশি, হুগলির বাসিন্দা মাধাই পাত্র নামে এক মাওবাদীও আত্মসমর্পণ করেছেন পুলিশের কাছে। তিনিও ঝাড়খণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
মঙ্গলবার বিকেলে আলিপুর বডিগার্ড লাইন্স থেকে সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার জানান, ধৃতকে মাওবাদী নেত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বেলাকে জেরা করার জন্য ঝাড়খণ্ডের পুলিশও কলকাতায় আসবে। প্রবীণ ওই মাওবাদী নেত্রীর শারীরিক অবস্থাও খুব একটা ভাল নয় বলে জানান তিনি। ২০০৫ সাল থেকে বেলা ঝাড়খণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। সে রাজ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। ঝাড়খণ্ডে তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ১৫ লক্ষ টাকা। মূলত ঘাটশিলা, পূর্ব এবং পশ্চিম সিংভূম এলাকায় তিনি সক্রিয় ছিলেন। পুলিশ কমিশনার জানান, ২০০৪-০৫ সালে পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলপাহাড়িতে একটি মামলায় নাম জড়িয়েছিল বেলার। ওই মামলায় গ্রেফতারও হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জামিন পাওয়ার পরে তিনি আর এ রাজ্যে ফিরে আসেননি।
এর পরে কোনও এক কারণে বেলা কলকাতায় আসেন। গোপন সূত্রে সেই খবর পেয়ে পুলিশ উত্তর কাশীপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। কী কারণে তিনি কলকাতায় এসেছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তিনি কত দিন আগে কলকাতায় আসেন, সে বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে বলে জানান পুলিশ কমিশনার। পাশাপাশি, হুগলির জাঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা মাধাই পাত্রও মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করেন পুলিশের কাছে। তিনিও দীর্ঘ দিন মাওবাদী কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন। ২০০৭ সালে প্রথম বার গ্রেফতার হয়েছিলেন মাধাই। জামিন পাওয়ার পরে তিনি চলে যান ঝাড়খণ্ডে এবং সেখানেই সক্রিয় ছিলেন। পুলিশ কমিশনার বলেন, “অনেক দিন মাওবাদী কার্যকলাপ করার পরে তিনি (মাধাই) এখন আত্মসমর্পণ করে সাধারণ জীবনযাপন করতে চাইছেন। তিনি মূলস্রোতে ফিরতে চাইছেন। আমাদের যে আত্মসমর্পণ এবং পুনর্বাসন প্রকল্প রয়েছে, সেই অনুযায়ী তাঁকে সাহায্য করা হবে।”
আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী মাধাইকেও মঙ্গলবার হাজির করানো হয় সাংবাদিক বৈঠকে। তিনি বলেন, “আমি প্রথমে যখন পার্টিতে যুক্ত হয়েছিলাম, তখন পার্টির রীতিনীতি সবই ভাল ছিল। কিন্তু পরে পার্টির রীতিনীতি পরিবর্তন হয়েছে। সমাজের পরিবর্তন হয়েছে। সেই সব বিচার করে আমি সমাজের মূলধারায় ফিরে আসার চিন্তাভাবনা করেছি।” মাওবাদী সংগঠনে এখনও যাঁরা জড়িত রয়েছেন, তাঁদেরও আত্মসমর্পণ করে সমাজের মূল স্রোতে ফেরার আহ্বান জানান মাধাই।