Kasba Murder

মেয়ের সামনেই ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন কসবায়! গ্রেফতার স্বামী, টাকাকড়ি নিয়ে বিবাদের জের বলেই প্রাথমিক অনুমান

রবিবার ভোরে কসবার বোসপুকুরে এই খুনের ঘটনাটি ঘটে। ধৃতের নাম বিনোদ সিংহ। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত প্রায়ই মত্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরতেন। নানা কারণে অশান্তি করতেন বাড়িতে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ১১:২৮
Police arrests husband in Kasba woman\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\'s death case

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

আবার কসবায় হত্যাকাণ্ড। ছোট্ট মেয়ের সামনে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। পালানোর সময় অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন এলাকাবাসীরাই। তুলে দেওয়া হয় কসবা থানার পুলিশের হাতে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার ভোরে কসবার বোসপুকুরে এই খুনের ঘটনা ঘটে। ধৃতের নাম বিনোদ সিংহ। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত প্রায়ই মত্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরতেন। স্ত্রী স্বপ্না সিংহের কাছে টাকা চাইতেন। টাকা না-দিলে অশান্তিও করতেন। স্ত্রীকে মারধরও করতেন বলে অভিযোগ প্রতিবেশীদের। তাঁদের দাবি, শনিবার রাত ১০টা নাগাদ বাড়ি ফিরেছিলেন বিনোদ। বাড়িতে ঢুকেই স্বপ্নার থেকে চার হাজার টাকা চান। তবে টাকা দেননি স্ত্রী। আর তাতেই রেগে অশান্তি শুরু করেন। কিছু ক্ষণ পরই বেরিয়ে যান।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ভোরের দিকে আবার বাড়ি ফেরেন বিনোদ। দরজায় বার বার ধাক্কা দেওয়ায় তার মেয়ে দরজা খুলে দেয়। ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন স্বপ্না। অভিযোগ, আচমকাই সেই সময় স্ত্রীর পেটে পর পর ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বিনোদ। মহিলার চিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। পালানোর সময় তাঁকে ধরে ফেলেন প্রতিবেশীরা। তাঁরাই রক্তাক্ত অবস্থায় সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ চিত্তরঞ্জন মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় স্বপ্নার।

পুলিশ সূত্রে খবর, সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ কসবা থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছোয় ঘটনাস্থলে। আটক করে বিনোদকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গ্রেফতার করে পুলিশ। মৃতার মেয়ের থেকেই গোটা বিষয়টা জানতে পারেন তদন্তকারীরা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক অশান্তির জেরেই স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বিনোদ। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃতার পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মৃতার এক আত্মীয়ের দাবি, ‘‘বিনোদ রোজগার করতেন না। স্বপ্না একটি জায়গায় কাজ করতেন। তাঁর রোজগারের টাকাতেই সংসার চলত। তবে বিনোদ প্রায়ই স্ত্রীর কাছে টাকা চাইতেন। টাকা না-পেলে অশান্তি করতেন। স্বপ্নার কাজের জায়গায় গিয়ে চড়াও হতেন বিনোদ। বার বার একই ঘটনা ঘটায় চাকরি হারাতে হয় স্বপ্নাকে।’’ এক প্রতিবেশীর দাবি, ‘‘শনিবার রাতে এসেও টাকার জন্য অশান্তি করেছিলেন বিনোদ। চার হাজার টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু স্বপ্না সেই টাকা দেননি।’’ প্রতিবেশীদের মতে, টাকা না-দেওয়ায় ভোরে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করেন বিনোদ।

Advertisement
আরও পড়ুন