Unnatural Death

মৃত প্রৌঢ়ার সঙ্গে বোনেরা, পরে উদ্ধার

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সবিতা তাঁর দুই দিদি মনীষা চক্রবর্তী এবং তপতী চক্রবর্তীর সঙ্গে থাকতেন। তাঁদের এক ভাই ছিলেন পার্থ চক্রবর্তী। তিনি বেঙ্গল কেমিক্যালে চাকরি করতেন। তাঁর রোজগারেই তিন বোনের সংসার চলত।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪০

— প্রতীকী চিত্র।

কটু গন্ধটা কয়েক দিন ধরেই পাচ্ছিলেন প্রতিবেশীরা। অবশেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হল এক মহিলার পচাগলা দেহ। মানিকতলা থানা এলাকার বাগমারি লেনের ঘটনা। পুলিশের ধারণা, দিন তিনেক আগে মৃত্যু হয়েছে সবিতা চক্রবর্তী (৬২) নামে ওই প্রৌঢ়ার। দুই দিদির সঙ্গে একটি চারতলা বহুতলের দোতলার ফ্ল্যাটে থাকতেন সবিতা। প্রতিবেশীদের থেকে পুলিশ জেনেছে, তিন বোনেরই মানসিক সমস্যা ছিল। পুলিশের ধারণা, সেই কারণে সবিতার মৃত্যু হলেও দুই দিদি তা বুঝতে পারেননি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সবিতা তাঁর দুই দিদি মনীষা চক্রবর্তী এবং তপতী চক্রবর্তীর সঙ্গে থাকতেন। তাঁদের এক ভাই ছিলেন পার্থ চক্রবর্তী। তিনি বেঙ্গল কেমিক্যালে চাকরি করতেন। তাঁর রোজগারেই তিন বোনের সংসার চলত। অবসর নেওয়ার পরে কয়েক বছর আগে পার্থ মারা যান। তিন বোন এর পরেই অথৈ জলে পড়েন। ওই বহুতলের বাসিন্দা দম্পতি দীপক মুখোপাধ্যায়, মল্লিকা মুখোপাধ্যায়রা বলেন, ‘‘তপতী ভিক্ষা করে খাবার জোগাড় করেন। প্রতিবেশীরাও মাঝেমধ্যে খাবার দেওয়া-সহ নানা সাহায্য করেন।’’

সবিতাদের পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা গোপা গুপ্ত বলেন, ‘‘দিন দুয়েক ধরেই ওঁদের ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ পাচ্ছিলাম। কিন্তু তিন বোনের মানসিক সমস্যা থাকায় তাঁরা ঘর-শৌচাগার ঠিক মতো পরিষ্কার রাখতেন না। তাই ওই ধরনের গন্ধ সব সময়ে তাঁদের ফ্ল্যাট থেকে পাওয়া যেত। যে কারণে প্রথমে আমরা বিষয়টিকে আমল দিইনি।’’

স্থানীয় সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বিকেলে তপতী তেতলার এক ফ্ল্যাটের বাসিন্দাকে গিয়ে জানান, সবিতা খাওয়াদাওয়া করছেন না। কথাও বলছেন না। এর পরেই ওই বাসিন্দা দোতলায় এসে সেই কথা গোপাদের জানান। গোপারা খবর দেন থানায়। পুলিশ এসে অনেক বুঝিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা খুলিয়ে সবিতার দেহ উদ্ধার করে। শুক্রবার তপতী বলেন, ‘‘সবিতা দু’দিন ধরে কথা বলছিল না। খেতে চাইছিল না। তার পরে পুলিশ এসে ওকে কাপড়ের পোঁটলায় বেঁধে নিয়ে চলে গেল!’’

আরও পড়ুন