Nazirabad Fire Accident

নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ডে মোমো সংস্থার দফতরে তদন্তে পুলিশ

শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১৬

সোনারপুর: নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে সোমবার ওয়াও মোমোর দফতরে গেল পুলিশের একটি দল। এই ঘটনায় মোমো সংস্থার দুই কর্মী, মনোরঞ্জন সিট ও রাজা চক্রবর্তীকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আপাতত তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মনোরঞ্জন ও রাজাকে নিয়েই এ দিন ই এম বাইপাস লাগোয়া মোমো সংস্থার দফতরে যান তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, বিভিন্ন কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হয়। কিছু কাগজপত্র পুলিশ নিয়ে যায় বলেও জানা গিয়েছে।

গত ২৫ জানুয়ারি নাজিরাবাদে ওয়াও মোমোর গুদাম ও পাশের একটি ডেকরেটিং সংস্থার গুদামে আগুন লেগে ২৭ জন কর্মীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় প্রথমে ডেকরেটিং সংস্থার মালিক গঙ্গাধর দাস, পরে ওয়াও মোমোর দুই কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিভিন্ন মহল থেকে ওয়াও মোমোর মালিককে গ্রেফতারের দাবি ওঠে। এলাকায় মিছিল করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও মোমো সংস্থার মালিককে গ্রেফতারের দাবি জানান। বামেদের তরফে একাধিক জায়গায় ওয়াও মোমোর বিপণির সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়। রবিবারেও বারুইপুরে ওয়াও মোমোর একটি বিপণির সামনে বিক্ষোভ দেখান বাম সমর্থকেরা। পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, দুই গুদামের অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা-সহ অন্যান্য জরুরি অনুমতিপত্র ঠিক ছিল কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ডেকরেটিং সংস্থার মালিক গঙ্গাধরকে নিয়ে কলকাতায় তাঁর সংস্থার একাধিক ডেরায় তদন্ত চালিয়েছে পুলিশ।

দগ্ধ দুই গুদামে ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে উদ্ধারকাজ। সোমবার দিনভর ঘটনাস্থল ছিল শুনশান। তবে, পুলিশি পাহারা ছিল। এ দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর এক প্রতিনিধিদল। সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আলতাফ আহমেদ বলেন, “কী ভাবে জলাজমি ভরাট হল, তা নিয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে আমরা কথা বলব। সংস্থার কর্মীদের ইএসআই, প্রভিডেন্ট ফান্ড ছিল কিনা, না থাকলে কেন ছিল না, তা দেখা হবে। প্রয়োজনে আমরা জনস্বার্থ মামলা করব।”

আরও পড়ুন