—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওয়ার্ডের যুবক অশোক পাসোয়ানের খুনের ঘটনায় চার্জশিট দিল পুলিশ। গত বছরের অক্টোবর মাসে চেতলায় ‘নৃশংস ভাবে’ রাস্তার মধ্যে খুন হন ওই যুবক। তাঁর গলায় শাবল ঢুকিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। অশোকের খুনের নেপথ্যে কী কারণ, তা চার্জশিটে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
২০২৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কলকাতার চেতলার ১৭ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের কাছে খুন হয়েছিলেন অশোক। মদের আসরে বচসা থেকেই রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে। অভিযোগ, এক সঙ্গী আচমকাই অশোকের গলায় শাবল ঢুকিয়ে দেন। সেই অবস্থায় রাস্তা দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দৌড়ে যান অশোক। তবে আর বেশি দূর এগোতে পারেননি। পড়ে যান রাস্তার উপরই। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ওই খুনের ঘটনায় পুলিশ সুরজিৎ হালদার এবং তাপস পাল নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছিল। ৮৫ পাতার চার্জশিটে তাঁদেরকেই মূল অভিযুক্ত হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আলিপুর আদালতে দেওয়া চার্জশিটে ৩০ জন সাক্ষীর বয়ান নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে জানা গিয়েছে এক অভিযুক্তের স্ত্রীকে নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত। মদের আসরে সেই বিষয় নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে অশান্তি হয় অশোক। আর যার পরিণতি অশোকের মৃত্যু!
অশোকের খুনকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। চেতলায় যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছিল, সেটি ফিরহাদের ওয়ার্ড, অর্থাৎ ৮২ নম্বর ওয়ার্ড। ঘটনার পর পরই চেতলা থানার ওসি বদল হয়। তৎকালীন ওসি সুখেন্দু মুখোপাধ্যায়ের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় অমিতাভ সরখেলকে। রাতারাতি ওসি বদলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে কি চেতলায় অশোকের খুনের কারণেই সরানো হয় ওসিকে? যদিও পুলিশকর্তারা জানান, তেমন কোনও বিষয় নয়। সুখেন্দু আগে থেকেই পদোন্নতি পেয়েছিলেন।