—প্রতীকী চিত্র।
নিউ টাউনে ফের পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক স্কুটারচালকের। রবিবার সকালে ইকো পার্কের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথ-বিভাজিকায় ধাক্কা মেরে ছিটকে পড়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই নিয়ে চলতি মাসে নিউ টাউনে পৃথক তিনটি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল চার ব্যক্তির।
এ দিন সকাল সাড়ে ৬টার কিছু আগে ইকো পার্কের ১ এবং ২ নম্বর গেটের মাঝে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম ত্রিদীপ চৌধুরী (২৫)। পুলিশ সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তি স্কুটার চালিয়ে ইকো পার্কের দিক থেকে সার্ভিস রোড ধরে নিউ টাউনের আকাঙ্ক্ষা মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। ইকো পার্কের ১ নম্বর গেট পার হয়ে কিছু দূর এগোতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথ-বিভাজিকায় ধাক্কা মারে স্কুটারটি। ছিটকে রাস্তার ধারের রেলিংয়ে আছড়ে পড়েন চালক। তাঁর মাথা ও বুকে গুরুতর আঘাত লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ছুটে যান স্থানীয় মানুষ এবং পুলিশ। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়। গাড়ির গতিবেগ বেশি ছিল বলে অনুমান পুলিশের।
প্রাতর্ভ্রমণকারীদের একাংশের কথায়, ‘‘আচমকা ঘটনাটি ঘটেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগে দ্রুতবেগে যাওয়া একটি স্কুটার সামলাতে না পেরে পথ-বিভাজিকায় গিয়ে ধাক্কা মারে। চালক কার্যত উড়ে গিয়ে রেলিংয়ে আছড়ে পড়েন।’’ পুলিশ সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ত্রিদীপ নিউ টাউনের আঠারোতলা এলাকায় কোনও পরিচিতের বাড়ি থেকে বাগুইআটি এলাকায় নিজের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ জানুয়ারি পাথরঘাটা-বাদামতলা রোডে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ইঞ্জিন ভ্যান উল্টে চালকের মৃত্যু হয়েছিল। গত ১৩ জানুয়ারি যাত্রাগাছি খালপাড় এলাকায় দুই মোটরবাইকের সংঘর্ষে দু’জন চালকের মৃত্যু হয়। এর পরে ফের এ দিনের দুর্ঘটনা।
তবে দুর্ঘটনার ছবি শুধু নিউ টাউনেই সীমাবদ্ধ নেই। গত শুক্রবার রাতে বইমেলা থেকে বেরিয়ে হাওড়া যাওয়ার পথে একটি গাড়ি সল্টলেকের ৪ নম্বর ট্যাঙ্কের রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা মারে। গাড়িতে থাকা এক বৃদ্ধা আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওই রাস্তার ধারে একাধিক গাড়ি দাঁড় করানো থাকে। ফলে গাড়ি চলাচলের পরিসর কমে যায়। উপরন্তু বেহাল দশা, ছোট-বড় গর্তে ভরা রাস্তাটি। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বিধাননগর পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, রাস্তার কাজ হয়েছে। যেটুকু বাকি আছে, সেই রাস্তার মেরামতের জন্যে খসড়া প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তবে নিউ টাউন ও বিধাননগর কমিশনারেট এলাকার বাকি অংশে পর পর ঘটে যাওয়া পথ দুর্ঘটনায় আহতের সংখ্যাও একাধিক। পুলিশের দাবি, দুর্ঘটনায় রাশ টানতে গতি নিয়ন্ত্রণ, স্পিড ব্রেকার, পুলিশি নজরদারি, নিয়ম ভঙ্গে কেস রুজু করা ও সচেতনতার পাঠ দেওয়া হচ্ছে। তার পরেও হুঁশ ফিরছে না।