—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
শহরে স্কুলগাড়ি দুর্ঘটনায় জখম হলেন চার জন। তাদের মধ্যে তিন জন পড়ুয়া। সোমবার সকালে ফোর্ট উইলিয়ামের কাছে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ওই স্কুলগাড়িতে ধাক্কা মারে। তাতে জখম হন স্কুলগাড়ির চালকও। জখম তিন পড়ুয়াকে দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে সকলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রের খবর, আহত পড়ুয়াদের নাম আরাধ্যা বন্দ্যোপাধ্যায় (১১), অগ্নিত্রী মাঝি (১১) এবং ঈশানভি বাগ (১০)। তাদের শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ময়দান থানার পুলিশ দু’টি গাড়িই বাজেয়াপ্ত করে। ব্যক্তিগত গাড়িটির চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, দুর্ঘটনাগ্রস্ত স্কুলগাড়িটি ১৯ বছরেরও বেশি পুরনো। ব্যারাকপুরের আঞ্চলিক পরিবহণ দফতরের অধীনে গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন হয়েছিল ২০০৬ সালের ১০ অক্টোবর। ব্যক্তিগত নম্বর প্লেটের ওই গাড়িটি ভারত স্টেজ-২ মাত্রার। ব্যক্তিগত যান হিসাবে নথিভুক্ত গাড়িটির স্বাস্থ্য শংসাপত্র এবং বিমার মেয়াদ ফুরোয়নি। পথ করের মেয়াদ রয়েছে ২০৩১ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। যদিও দূষণ সংক্রান্ত নথির মেয়াদ ফুরিয়েছে গত ১ মার্চ। তবে, ব্যক্তিগত নম্বর প্লেটের গাড়িকে কী ভাবে স্কুলগাড়ি হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেই প্রশ্ন উঠেছে। বাণিজ্যিক গাড়ির ক্ষেত্রে বিমা, পথ কর এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিধি আলাদা। ১৫ বছরের বেশি পুরনো কোনও যাত্রিবাহী গাড়িকে বাণিজ্যিক গাড়ি হিসাবে চালানোয় বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই এত পুরনো গাড়ি স্কুলপড়ুয়াদের পরিবহণে ব্যবহার হওয়ার কথাই নয়। তদন্তে পুলিশ এই সব তথ্য যাচাই করছে। খতিয়ে দেখছেন পরিবহণ দফতরের আধিকারিকেরাও।
পুলকার ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ দত্ত বলেন, ‘‘পড়ুয়াদের নিরাপত্তায় বাণিজ্যিক নম্বর প্লেটের অনুমোদিত স্কুলগাড়ি ব্যবহার করাই দস্তুর। কী ভাবে নজর এড়িয়ে গাড়িটি চলছিল, তা দেখা উচিত। যাত্রিবাহী বাণিজ্যিক গাড়ির স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা-প্রস্তুতি অনেক বেশি। সে সব ছাড়া পড়ুয়াদের স্কুলগাড়িতে যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’’